ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সেতু নয়, যেন ‘পুলসিরাত’

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৪-১১-২০২৫ ১১:১৯:৫০ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ১৪-১১-২০২৫ ০১:০৮:৪২ অপরাহ্ন
সেতু নয়, যেন ‘পুলসিরাত’ সংবাদচিত্র: সংগৃহীত
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার গোলবুনিয়া ও জানখালী গ্রামের সীমান্তবর্তী সাংরাইল খালের ওপর নির্মিত সংযোগ সেতুটির বেহাল অবস্থা। লোহার সেতুর পাটাতনের স্ল্যাবগুলো পুরোপুরি ১৪ বছর আগে ভেঙে গেছে। স্থানীয়রা লোহার বিমের ওপর সুপারিগাছ ও বাঁশ দিয়ে সাঁকো বানিয়েছেন। এভাবে ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপার হচ্ছেন ৬ গ্রামের অন্তত ৮-১০ হাজার মানুষ। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী স্কুল ও মাদরাসায় যাওয়ার জন্য ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩১ বছর আগে সাংরাইল খালের ওপর লোহার সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড় সিডরে গাছ পড়ে সেতুটির পাটাতন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে পাটাতনের রড ও সিমেন্টের তৈরি স্ল্যাবগুলো ভেঙে যেতে থাকে। ১৪ বছর আগে সেতুটির সবগুলো স্ল্যাব ভেঙে যাওয়ায় সুপারিগাছ বিমের ওপর দেওয়া হয়। মেরামত না হওয়ায় এভাবেই লোকজন চলাচল করে আসছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির লোহার বিমের ওপর থাকা পাটাতনের স্ল্যাবগুলো ভেঙে গেছে। শুধু লোহার খুঁটির ওপর বিম রয়েছে। বিমের ওপর সুপারিগাছ ও বাঁশ দিয়ে সরু সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। লোহার খুঁটি ও বিমে মরিচা ধরে জরাজীর্ণ হয়ে গেছে।স্থানীয় একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীসহ সেতু দিয়ে প্রতিদিন জানখালী উলুবাড়িয়া হামিদিয়া দাখিল মাদরাসা, জানখালী সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৭৮ নম্বর জানখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঘোপখালী, জানখালী, উলুবাড়িয়া, নিজানিয়া এবং কালিকাবাড়ি, হোগলপাতি ও গোলবুনিয়া হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে সেতুটি দিয়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান মীর বলেন, ঘূর্ণিঝড় সিডরে সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেতু নির্মাণের জন্য জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার দাবি জানিয়ে আসছি। তবে কোনো ফল মেলেনি। নিরুপায় হয়ে সেতুর ওপর এক পাশে সুপারিগাছ ও বাঁশ দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করেছি।কৃষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, শিশু শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় যেতে সেতুটি পার হতে গিয়ে অনেক সময় দুর্ঘটনায় পড়ে। সেতু দিয়ে পড়ে এক শিক্ষার্থীর হাত ভেঙে যায় ও এক বৃদ্ধ মহিলা আহত হন। তা ছাড়া কৃষিনির্ভর এ এলাকার মানুষ কৃষিপণ্য ঘাড়ে-মাথায় করে ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার হয়ে বেতমোর বাজারে যাতায়াত করেন।

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের প্রকৌশলী মো. জিয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে সেতুটি উপজেলা পরিষদ নির্মাণ করেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রধান কার্যালয়ে মঠবাড়িয়ায় একটি জরাজীর্ণ সেতু তালিকা চেয়েছেন সেগুলো আমরা করে পাঠিয়েছি। উপজেলা ইউনিয়ন ও গ্রামীণ সড়কের সেতু নির্মাণ প্রকল্প ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) তালিকা পাঠানো হয়েছে। যদি অনুমোদন হয়ে তালিকা আসে তাহলে আরসিসি সেতু নির্মাণ করব। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ূম জানান, সেতুটির খবর জানতে পেরে উপজেলা প্রকৌশলীকে পাঠানো হয়েছে। তিনি পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়াতে চলাচলের উপযোগী করা যায়নি। তবে আমরা ডিপিপি প্রকল্পে তালিকা পাঠিয়েছি সেটি অনুমোদন হয়ে আসলে আমরা কাজ শুরু করতে পারবো।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ