হাসপাতালের বেডে নবজাতক ও চিরকুট রেখে উধাও মা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৭-১১-২০২৫ ০৮:১৬:০৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৭-১১-২০২৫ ০৮:১৬:০৪ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে এক নবজাতক কন্যা শিশুকে রেখে উধাও হয়ে গেছেন তার মা। নবজাতকের বিছানার পাশে একটি বাজারের ব্যাগে রাখা ছিল একটি চিরকুট, যেখানে মা নিজের পরিচয় ও কিছু তথ্য লিখে গেছেন। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায়। বর্তমানে শিশুটি হাসপাতালের শিশু বিভাগে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং সে সুস্থ আছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে নবজাতকটিকে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের রেজিস্ট্রারে ঠিকানা লেখা ছিল— ইনছুয়ারা, শাহিনুর, আলাদিপুর, ফুলবাড়ী। শিশুটির মায়ের রেখে যাওয়া চিরকুটে লেখা ছিল, ‘আমি মুসলিম। আমি একজন হতভাগী। পরিস্থিতির শিকার হয়ে বাচ্চা রেখে গেলাম। দয়া করে কেউ নিয়ে যাবেন। বাচ্চার জন্ম তারিখ— ৪-১১-২০২৫, রোজ— মঙ্গলবার। এগুলো সব বাচ্চার ওষুধ। আমি মুসলমান জাতির মেয়ে।’
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে ঘটনাটি জানাজানি হলে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অনেকেই নবজাতকটিকে দত্তক নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
হাসপাতালের কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসক গোলাম আহাদ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পঞ্চাশোর্ধ্ব এক দম্পতি নবজাতকটিকে কোলে নিয়ে এসে ভর্তি করতে চান। তারা নিজেদের শিশুটির নানা-নানি বলে পরিচয় দেন। আমি শিশুটির মাকে আনতে বললে তারা জানান, মা নিচে আছেন। কিন্তু পরে আর তারা ফিরে আসেননি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিছুক্ষণ পর শিশু ওয়ার্ডের এক বেডে নবজাতকটিকে একা পড়ে থাকতে দেখা যায়। খোঁজাখুঁজির পরও তার মা বা স্বজনদের আর পাওয়া যায়নি। শিশুটির পাশে পাওয়া গেছে একটি ব্যাগ, যেখানে ওষুধ, ডায়াপার ও জামাকাপড় ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে ওই ব্যাগে করে হাসপাতালে আনা হয়েছিল।’
ইন্টার্ন চিকিৎসক জানান, শিশুটির জন্ম স্বাভাবিক সময়ের আগে হয়েছে। তাকে ফটোথেরাপি দেওয়া হয়েছে এবং ওয়ার্মারে রাখা হয়েছে। বর্তমানে সে সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে।
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফজলুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে নবজাতকটিকে হাসপাতালে রাখে উধাও নবজাতকের মা। আমরা শিশুটিকে বিশেষ চিকিৎসা দিচ্ছি। বর্তমানে নবজাতক শিশুটি ভালো আছে। অনেকেই শিশুটিকে দত্তক নিতে চেয়েছেন, তবে আমরা প্রথমে শিশুটির মা-বাবাকে খুঁজে বের করতে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছি। মেডিকেলের ভর্তি রেজিস্ট্রারে থাকা ঠিকানা অনুযায়ী অনুসন্ধান শুরু করেছে। শিশুটির প্রকৃত অভিভাবকদের পাওয়া গেলে তাদের বক্তব্য অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স