নেসকোর পদোন্নতি নীতিমালায় নতুন বিতর্ক: কোরভিত্তিক সিনিয়রিটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৫-১১-২০২৫ ০৩:৪১:১৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৫-১১-২০২৫ ০৩:৪১:১৮ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি পিএলসি (নেসকো)–এর নতুন পদোন্নতি নীতিমালা নিয়ে সংস্থার কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি নেসকো পরিচালনা পর্ষদের ২০০তম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তীতে জারি করা সার্কুলারে কোরভিত্তিক (core-based) জ্যেষ্ঠতা তালিকা ও পদোন্নতি পরীক্ষার অনুপাত নির্ধারণের প্রস্তাব প্রকাশ পায়, যা সংস্থার একটি অংশ বৈষম্যমূলক বলে দাবি করছে।
নেসকোর সার্কুলার অনুযায়ী, পর্ষদ অনুমোদিত সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে— প্রতিটি পদোন্নতিযোগ্য শূন্যপদের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫ জন কর্মকর্তা পদোন্নতি বা মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। একাধিক শূন্যপদের ক্ষেত্রে এই অনুপাত হবে প্রতি পদের বিপরীতে ৩ জন কর্মকর্তা। একই সঙ্গে কোরভিত্তিক সমন্বিত গ্রেডেশন তালিকা প্রস্তুতের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।
পর্ষদের এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভবিষ্যতে সকল নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় কোরভিত্তিক সমন্বিত মেধাতালিকা আবশ্যিকভাবে করা হবে।
তবে নেসকোর অনেক কর্মকর্তা মনে করছেন, এই কোরভিত্তিক “রেটিও পদ্ধতি” পূর্ববর্তী নাম্বারভিত্তিক মেধাক্রম ও সিনিয়রিটি নির্ধারণের পদ্ধতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের অভিযোগ, মেধা ও অভিজ্ঞতার পরিবর্তে ডিসিপ্লিন বা কোরভিত্তিক অনুপাত নির্ধারণ করা হলে তা “আইনের পরিপন্থী ও বৈষম্যমূলক” হবে। এতে যোগ্য কর্মকর্তারা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
অন্যদিকে নেসকো কর্তৃপক্ষ বলছে, কোনো অনিয়ম হয়নি—বিষয়টি এখনো আলোচনায় আছে এবং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংস্থার অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, সিনিয়রিটি কমিটি সরকার অনুমোদিত বিধিমালা মেনে প্রস্তাবটি তৈরি করেছে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
এদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে নেসকোর বিভিন্ন নিয়োগ ও ব্যয় সংক্রান্ত বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে। দুদকের উপপরিচালক মো. সোহানুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত একটি দল নেসকোকে লিখিতভাবে নথিপত্র চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।
প্রশাসন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় পদোন্নতি নীতিতে হঠাৎ পরিবর্তন আনলে তা প্রশাসনিক জটিলতা ও কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। তাদের মতে, মেধা, অভিজ্ঞতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতেই সিনিয়রিটি নির্ধারণ করা উচিত, যাতে প্রতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও কর্মীদের মনোবল অক্ষুণ্ণ থাকে।
সারসংক্ষেপে, নেসকোর কোরভিত্তিক নতুন পদোন্নতি কাঠামো এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে প্রশাসনিক আধুনিকায়নের প্রয়াস, অন্যদিকে কর্মীদের উদ্বেগ—এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন নেসকো কর্তৃপক্ষের বড় চ্যালেঞ্জ।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স