ঢাকা , মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ , ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রতিবেদন

আদানিসহ অধিকাংশ বিদ্যুৎ চুক্তিতে বড় ধরনের দুর্নীতি করেছে আ.লীগ সরকার

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ০২-১১-২০২৫ ০৯:০৩:১৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০২-১১-২০২৫ ০৯:১৬:২৫ অপরাহ্ন
আদানিসহ অধিকাংশ বিদ্যুৎ চুক্তিতে বড় ধরনের দুর্নীতি করেছে আ.লীগ সরকার ​ছবি: সংগৃহীত
ভারতের আদানিসহ অধিকাংশ বিদ্যুৎ চুক্তিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ গঠিত উচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি। এর সঙ্গে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারসহ আমলা ও ব্যবসায়ীরাও জড়িত ছিলেন। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তি হওয়ায় যথাযথ প্রমাণ ছাড়া চুক্তি বাতিল করা সম্ভব নয়।

বিশেষ বিধানে সম্পাদিত বিদ্যুৎ খাতের চুক্তিগুলো পর্যালোচনার লক্ষ্যে গঠিত কমিটি ১ বছর পর রোববার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে একটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন বিদ্যুৎ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের কাছে হস্তান্তর করে। এ সময় কমিটির সদস্যরা সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব তথ্য জানান।

ভারতের আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ নিয়ে চুক্তি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, প্রতিটি চুক্তিতেই স্বীকারোক্তি থাকে যে, এই চুক্তিতে কোনো দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়নি। কিন্তু এটা যদি ভায়োলেট করা হয় তাহলে কিন্তু চুক্তি বাতিল করা যায়।

ফাওজুল কবির বলেন, আদানির সঙ্গে করা চুক্তির বিষয়ে যদি দুর্নীতি প্রমাণ হয়, তাহলে সে চুক্তি বাতিল হতে পারে। তবে চুক্তি চাইলেই বাতিল করা যায় না।

জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, চুক্তি বাতিলের একটা প্রক্রিয়া আছে। সাধারণ কোনো কারণ দেখিয়ে এবং কারণ ছাড়া দুইভাবে চুক্তি বাতিল করা যায়। তবে কারণ ছাড়া চুক্তি বাতিল করলে নির্ধারিত পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিতে হয়।

তিনি আরও বলেন, সবার সহযোগিতা পেলে দুদকের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব তথ্য দুদকের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

কমিটির প্রধান সাবেক বিচারপতি মইনুল ইসলাম বলেন, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ আইনের আওতায় বড় ধরনের দুর্নীতি করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। এই চুক্তি হয়েছে বিভিন্ন দেশের কোম্পানির সঙ্গে। ভারতের আদানিসহ যেসব কোম্পানি এ কাজের সঙ্গে জড়িত তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন-এর  ফ্যাকাল্টি অব ল' অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সের অধ্যাপক (অর্থনীতি) মোশতাক হোসেন খান বলেন, যে চুক্তিগুলো হয়েছে সেগুলো সার্বভৌম চুক্তি। একটি রাষ্ট্রের সঙ্গে একটি কোম্পানির চুক্তি সই হয়েছে। সার্বভৌম চুক্তি আন্তর্জাতিক আইনের স্বীকৃত। যদি মনে হয় এখানে কোনো কারচুপি হয়েছে আপনি ইচ্ছামতো এটাকে বাতিল করতে পারবেন না। এটা বাতিল করলে আপনার ওপরে অনেক বড় জরিমানা আসবে আন্তর্জাতিক আদালত থেকে। এজন্য আমাদের অনেক সময় লেগেছে জাতীয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখা যে প্রক্রিয়াগুলো কী ছিল। সেখানে কোথায় ব্যতিক্রম হয়েছে। আমরা যে বিষয়গুলো পেয়েছি এর সব কিছু অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে নেই। কারণ কিছু কিছু জিনিস চলমান। সেজন্য আমরা সেগুলোকে প্রকাশ করিনি।

তিনি বলেন, আপনারা আগামী মাস খানেকের মধ্যে আরও অনেক দুর্নীতির তথ্য পাবেন। এখানে ব্যাপক দুর্নীতি, এ দুর্নীতি আমাদের রোধ করতেই হবে। এটাকে মেনে নেওয়া বা সহ্য করা সম্ভব নয়।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ