ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রিফিংয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী

​আত্মসমর্পণ করা সেনা কর্মকর্তারা নির্দোষ, অপরাধীরা ভারতে

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২২-১০-২০২৫ ০৪:৫৬:৪৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২২-১০-২০২৫ ০৭:২০:৫৮ অপরাহ্ন
​আত্মসমর্পণ করা সেনা কর্মকর্তারা নির্দোষ, অপরাধীরা ভারতে ​ছবি: সংগৃহীত
মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেছেন ১৫ জন সেনা কর্মকর্তা। তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাদের আইনজীবী এম সরোয়ার হোসেন। তিনি দাবি করেছেন, এই কর্মকর্তারা নির্দোষ, আর প্রকৃত অপরাধীরা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পালিয়ে গেছেন।

বুধবার (২২ অক্টোবর) সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর বিকেলে তাঁদের ঢাকা সেনানিবাসের সাবজেলে নেওয়া হয়।

আইনজীবী সরোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘সেনা সদরের আদেশে সংযুক্তকৃত ১৫ জন অফিসার আজ আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁরা সবাই অভিজ্ঞ অফিসার, আন্তর্জাতিক মিশনেও কাজ করেছেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন, এই আদালত থেকেই ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ইতোমধ্যেই অ্যাপ্রুভার হিসেবে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যা কিছু হয়েছে, তা শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের নির্দেশে হয়েছে। এই অফিসারদের কারও ওপর ঘটনাগুলোর কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না।’

প্রসিকিউশন পক্ষ দাবি করেছিল, ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আইনজীবী সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘তাঁরা স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। পুলিশের মাধ্যমে কোর্টে সারেন্ডার করায় সেটিকে কেউ কেউ গ্রেপ্তার বলছেন। বাস্তবে তারা কখনোই গ্রেপ্তার ছিলেন না, বরং আর্মি সদর আগেই জানিয়েছিল তারা সেনা হেফাজতে আছেন।’

এই তিনটি মামলার মধ্যে দুটি গুম ও নির্যাতনের ঘটনা সম্পর্কিত এবং একটি মামলা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে। ট্রাইব্যুনাল–১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মোর্তজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চ সকালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের শুনানি শেষে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত ৮ অক্টোবর মানবতাবিরোধী অপরাধের তিন মামলায় মোট ২৫ জন সেনা কর্মকর্তা, এবং আরও কয়েকজন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। সেদিনই এই মামলাগুলোর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

মামলাগুলোতে অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনসহ র‍্যাবের তিন সাবেক মহাপরিচালক।

আইনজীবী সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সত্যিকারের অপরাধীরা ইতোমধ্যে বিদেশে পালিয়ে গেছে। কিন্তু যারা আজ আদালতের সামনে দাঁড়িয়েছে, তারা নির্দোষ। আদালতের মাধ্যমে তা প্রমাণ হবে।’

এই মামলার ১৫ আসামির মধ্যে রয়েছেন—
মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত বিন আলম।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে

সহযোগিতার জন্য সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানালেন চিফ প্রসিকিউটর
১৫ সেনা কর্মকর্তাকে রাখা হবে সাবজেলে : ব্যারিস্টার সারোয়ার
শেখ হাসিনাসহ পলাতকদের হাজিরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ
১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ