জোবায়েদ হত্যা: অভিযুক্ত মাহিরকে থানায় দিলেন মা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২০-১০-২০২৫ ০৭:৪৪:৫৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২০-১০-২০২৫ ০৯:০৯:৫৫ অপরাহ্ন
অভিযুক্ত মাহির (বাঁয়ে), মো. জোবায়েদ হোসেন (ডানে)। ফাইল ছবি
ছাত্রদলের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা মো. জোবায়েদ হোসেন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন মাহির রহমানকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন তার মা রেখা আক্তার।
সোমবার (২০ অক্টোবর) সকালে তিনি নিজে বংশাল থানায় গিয়ে ছেলেকে পুলিশের কাছে দিয়ে আসেন।
সন্ধ্যায় মাহিরের খালু ইমরান শেখ গণমাধ্যমকে বলেন, খুনের ঘটনায় মাহিরের সম্পৃক্ততা পেয়ে গতকাল রাত তিনটার দিকে পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে যায়। এই খবর পেয়ে মাহিরের মা রেখা আক্তার সোমবার সকাল সাতটার দিকে মাহিরকে নিয়ে বংশাল থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। সম্পৃক্ততা না পেয়ে ভোর ছয়টার দিকে পুলিশ আমাকে ছেড়ে দেয়।
মাহিরকে তার মা থানায় সোপর্দ করেছেন, এই তথ্য স্বীকার করেনি পুলিশ। তবে এ হত্যাকাণ্ডে মাহিরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তবে ঘটনাটি ঘটার প্রায় একদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো মামলা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবার।
রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর আরমানিটোলায় টিউশনি করতে গিয়ে খুন হন জোবায়েদ। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং জবি ছাত্রদল আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।
পুলিশ জানায়, ওই দিন বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে আরমানিটোলার পানির পাম্প গলির 'রওশন ভিলা' নামের বাড়ির সিঁড়ি থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দুজন তরুণকে পালিয়ে যেতে দেখা গেলেও, তাদের মুখ পরিষ্কারভাবে শনাক্ত করা যায়নি।
নিহতের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত অভিযোগ করে বলেন, আমরা পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করতে চেয়েছিলাম—শিক্ষার্থী বর্ষা, তার বাবা-মা, বর্ষার প্রেমিক মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু নাফিসকে। কিন্তু বংশাল থানার ওসি মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, এতজনের নাম দিলে মামলা হালকা হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা পূর্ণাঙ্গ বিচার চাই।
এ বিষয়ে বংশাল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, তারা যাদের নাম দিতে চান, সেই নামেই মামলা নেয়া হবে। শুধু পরামর্শ দিয়েছিলাম যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
ঘটনার পর শিক্ষার্থী বর্ষাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। রোববার রাত ১১টার দিকে তাকে থানায় এনে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এ ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বংশাল থানার সামনে অবস্থান নিয়ে তারা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তাঁতিবাজার মোড়ে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা এবং সাময়িকভাবে রাস্তাও অবরোধ করেন।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিহত শিক্ষার্থীর স্মরণে দুই দিনের শোক ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি আগামী ২২ অক্টোবর নির্ধারিত ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের’ সব আয়োজন স্থগিত করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোক ও ক্ষোভের আবহ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স