আদা চাষে কৃষকের সাফল্য, ছোট জায়গায় বড় সম্ভাবনা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৬-১০-২০২৫ ০৩:৫৯:৪৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৬-১০-২০২৫ ০৩:৫৯:৪৬ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
রান্নার স্বাদে যেমন অপরিহার্য, তেমনি প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবেও এর সুনাম বিশ্বজোড়া। বলছি আদার কথা। দেশে আদা চাষে বাড়ছে কৃষকের আগ্রহ, মিলছে অর্থনৈতিক সাফল্যও। প্রাচীনকাল থেকেই ঘরোয়া ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত আদা এখন কৃষকের সম্ভাবনার ফসল। রান্নার ঝাঁঝালো মসলা থেকে শুরু করে সর্দি-কাশির ঘরোয়া চিকিৎসা সবখানেই আদার ব্যবহার।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলি ইউনিয়নের ধিতপুর আলাল গ্রামের মো. মজিবর রহমানের ছেলে কৃষক মো. শাহাদাত হোসেন এবার বারি আদা-২ জাতের আদা ১০ শতক জায়গায় ৬০০ বস্তায় আদা চাষ করেছেন। গত বছর লাভ না হলেও, এবার ফলন ভালো হয়েছে তাই বাজারে ভালো দামের আশায় আছেন তিনি।
শাহাদাত হোসেন বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে বস্তায় আদা চাষ শুরু করেছি। বস্তায় আদা চাষে খরচ কম, জমিও আলাদা লাগে না। সহজে জায়গা পরিবর্তন করা যায়, রোগও কম হয়। আগে ধান করতাম লাভ কম ছিল, এখন আদা চাষে ভালোই আয় হচ্ছে।
কৃষক শাহাদাতের মতো অনেকেই এখন বেছে নিচ্ছেন এই পদ্ধতি। ছায়াযুক্ত জায়গায় সিমেন্টের প্লাস্টিকের বস্তায় সহজেই চাষ করা যায় আদা।
প্রতি বস্তায় দোআঁশ মাটি, পচা গোবর, সার, ছাই ও কাঠের গুড়াসহ ১৫–২০ দিন রেখে তৈরি করা হয় চাষের মাটি। এরপর ৪০-৫০ গ্রাম ওজনের আদার কন্দ বপন করা হয়। নিয়মিত পরিচর্যায় ৯–১০ মাসে আদা উত্তোলনযোগ্য হয়, আর প্রতি বস্তা থেকে পাওয়া যায় ১ থেকে ২ কেজি আদা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আদায় থাকা জিঞ্জেরল উপাদান শরীরের প্রদাহ, ব্যথা ও হজমজনিত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে বিশেষ করে ঠান্ডা-কাশিতে আদা চা খুব উপকারী।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, আমরা কৃষকদের সার, কীটনাশক ব্যবহার ও আধুনিক পদ্ধতিতে আদা চাষ শেখাচ্ছি। বাংলাদেশের মাটি আদা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
সরকারি সহায়তা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে আদা চাষ আরও প্রসারিত হলে দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানির নতুন দিগন্ত উন্মোচন সম্ভব বলছেন কৃষিবিদরা।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিসার এস এম নাসিম হোসেন বলেন, উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার খ্যাত সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা একটি কৃষি বান্ধব এলাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪০ হেক্টর জমিতে আদা চাষ করা হয়েছে আর ১৩ হাজার ৬০০ বস্তায় আদা চাষ করা হচ্ছে। বেসরকারিভাবে ১০ হাজার বস্তায় আদা চাষ করা হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় দশটি ইউনিয়নে আদা চাষ করা হচ্ছে। আদা চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা আদা চাষে আগ্রহ হচ্ছে। সদর উপজেলা কৃষি বিভাগ কৃষকদেরকে বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিয়ে থাকে।
রান্নার স্বাদে, রোগ প্রতিরোধে ও অর্থনীতির সমৃদ্ধিতে আদা এখন এক অনন্য সোনালি সম্ভাবনার নাম। ছোট্ট এক টুকরো আদাতেই লুকিয়ে আছে বড় এক সুস্থতার গল্প।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স