সবজির বাজারে আগুন: মাছ-মুরগি-চালের দামে নেই সুখবর
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১০-১০-২০২৫ ০২:৫১:৫৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১০-১০-২০২৫ ০৮:৫৫:২৩ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কয়েক মাস ধরেই ঊর্ধ্বমুখী। মাছ, মুরগি ও চালের পাশাপাশি এখন সবজির বাজারেও চড়া দাম ভোক্তাদের নাভিশ্বাস উঠিয়েছে। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। বৃষ্টি ও সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
গত দুই সপ্তাহে সরবরাহ এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হওয়ায় সবজির পরিমাণ কমে গেছে। এর সঙ্গে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারত থেকে কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানি বন্ধ থাকায় ওই দুই পণ্যের দাম আরও বেড়ে যায়। সপ্তাহের মাঝামাঝি সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও দাম এখনো উচ্চ পর্যায়ে। দুই সপ্তাহ আগে কাঁচা মরিচের কেজি ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। গত সপ্তাহে তা এক লাফে বেড়ে দাঁড়ায় ৪০০ টাকায়। এখন কিছুটা কমে খুচরা বাজারে মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, আর পাড়া-মহল্লায় ২৫০ টাকা দরে।
সবজির দামও কম নয়। বর্তমানে তাল বেগুনের কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা, সাধারণ বেগুন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, আর টমেটো ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁকরোল, করলা, ঢ্যাঁড়স, বরবটি ও লতি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়; ঝিঙে, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল, পটোল ও মুলা ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। এমনকি একটি লাউও এখন ৬০ টাকার কমে মিলছে না। তুলনামূলকভাবে কম দাম রয়েছে শুধু আলু ও পেঁপেতে—প্রতি কেজি ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মগবাজারের বাসিন্দা মাহমুদ হাসান জানান, বৃহস্পতিবার বাজার থেকে বেগুন, করলা, চিচিঙ্গা ও পেঁপে কিনতে তার খরচ হয়েছে ৩২০ টাকা। ‘আগে এক হাজার টাকার বাজারে এক সপ্তাহ পার হয়ে যেত, এখন দেড় হাজার টাকায়ও সপ্তাহ শেষ হয় না,’ বলেন তিনি।
সরকারি সংস্থা টিসিবির হিসাব অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ২ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭২ থেকে ১৮০ টাকায়। দেশি পেঁয়াজের দামও কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় পৌঁছেছে। রসুন ও আদার দাম স্থিতিশীল থাকলেও তেল ও পেঁয়াজের ঊর্ধ্বগতি ভোক্তাদের বাড়তি চাপ দিচ্ছে।
একই সময় মাছ ও মুরগির বাজারেও বেড়েছে উত্তাপ। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ১৮০ টাকায়, আর সোনালি মুরগি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়। এক ডজন ডিমের দাম ১৪০ টাকা। মাছের বাজারেও বড় পরিবর্তন—তেলাপিয়া কেজিপ্রতি ২২০ থেকে ৩০০ টাকা, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২৫০, কই ২৪০ থেকে ২৮০ এবং রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চালের বাজারেও স্বস্তি নেই। মিনিকেট চালের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দাম এখন ৭২ থেকে ৮৫ টাকার মধ্যে। ডায়মন্ড, মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, রশিদ ৭২ টাকায় আর মোজাম্মেল মিনিকেট ৮৫ টাকায়। বিক্রেতাদের মতে, মৌসুমি বৃষ্টির কারণে সরবরাহে ঘাটতি থাকায় সবজির দাম কিছুদিন উচ্চ পর্যায়েই থাকবে। তবে শীতের সবজি বাজারে এলে দাম কমে আসবে বলে আশা করছেন তারা।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স