সুদের শিকলে বন্দি জীবন!
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৭-১০-২০২৫ ০৮:২০:৪২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৮-১০-২০২৫ ০২:৩১:৪৯ অপরাহ্ন
দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামের ক্ষুদে ব্যবসায়ী, গৃহবধূ ও সাধারণ মানুষদের জীবন আজ সুদের দুষ্টচক্রে আটকে গেছে। ছোট ঋণ থেকে শুরু হওয়া বোঝা কখনো বাড়ি বিক্রি, কখনো দোকান বন্ধ বা জমি দখলের চেষ্টা পর্যন্ত নিয়ে যায়। ইদানিং সুদ দিতে না পেরে জীবন দিতেও দেখা গেছে অনেককে। দারিদ্র্য ও সংকটে পড়া মানুষের ওপর স্থানীয় মহাজনরা হুমকি, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে সুদের টাকা আদায় করেন। রাজধানীর পল্টন, কুমিল্লা, চাঁদপুর, সিরাজগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের ঘটনাগুলোই দেখাচ্ছে, এই চক্র ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের জীবনকে মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বাংলাস্কুপের ‘সুদের শিকলে বন্দি জীবন’ শিরোনামের বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমনই চিত্র।
সুদে জর্জরিত ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা
রাজধানী পল্টনের ছোট্ট একটি চায়ের দোকানী মো. হায়দার হোসেন (৩৫)। তিনি প্রতিদিন সকালে দোকান খুলে গভীর রাতে বন্ধ করেন। চায়ের প্যাকেট, বিস্কুট, চাল-ডাল, সবজি ইত্যাদি বিক্রি করে তিনি সংসার চালান। হঠাৎই তিনি জানতে পারেন দোকানের জন্য তার বাবার নেওয়া কিছু সুদের টাকার কথা। বাবা কাশেম আলী দোকানের মাল তোলার কথা বলে টাকা নিয়েছিলেন। বাবার নেয়া এই ৫০ হাজার টাকার ঋণের বোঝা এখন তার জীবন অতিষ্ট করে ফেলছে। সারাদিন যে টাকা আয় করেন তার সিংহভাগ চলে যায় সুদের টাকা দিতে। এখন তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
হোসেনের মতোই শহরের ক্ষুদে ব্যবসায়িরা বিশেষ করে মুদি দোকানদার, হোটেল মালিক, ছোট ছোট আয়ের ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকরা-প্রতি মাসে এই ঋণের বোঝা বয়ে বেড়ান। তাঁরা ব্যাংক বা মাইক্রোফাইন্যান্সে পৌঁছাতে পারছেন না, তাই স্থানীয় মহাজনদের ঋণের উপরই নির্ভরশীল।
এই ঋণ নেয়া হয় নামে-বেনামের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে। কখনো ব্যক্তি নিজেই দেন সুদ। মো. জামিল মিয়া” (ছদ্মনাম) তাদেরই একজন। জামিল মিয়া ঋণ দেন হাজারে ১০০ টাকা সুদের হারে। কেউ টাকা সময়মতো পরিশোধ করতে না পারলে মহাজনের লোকেরা তাদের বাড়িতে গিয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি, হুমকি ও ভয়ভীতি সৃষ্টি করে। ক্ষুদে ব্যবসায়িদের মধ্যে আছেন শাহরিয়ার (২৬), শান্তিনগরে একটি ছোট রিকশার স্টল তাঁর। তিনি বলছেন, সুদ দিতে না পারলে কেবল টাকা দাবি নয়, গালাগালি আর হুমকি আমাকে হতাশ করে দিয়েছে। মাসে অর্ধেক আয় চলে যায় শুধু সুদ পরিশোধে।
শাহবাগের ফুটপাত বসানো দোকানের মালিক রিমা (৩২) বলেন, আমি মূল ঋণ পরিশোধ করার জন্য দোকানের মাল বিক্রি করেছি, তবুও মাসিক সুদ দিতে হয়। এভাবে শেষ পর্যন্ত আমরা সবসময় ঋণের চক্রে আটকা পড়ি।
পল্টন, শাহবাগ, শান্তিনগর এবং নয়াপল্টনের ক্ষুদে ব্যবসায়িদের জীবনযাত্রা মূলত এই দুষ্টচক্রের প্রভাবেই সীমাবদ্ধ। মহাজনরা নিয়মিত সুদ নিয়ে নগদ পরিশোধ নিশ্চিত করেন, কিছু ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতাদের মূল্যবান জিনিসও বন্ধক রাখার চেষ্টা করেন। খুরশিদা বেগম (ছদ্মনাম) পল্টন এলাকায় ঋণ দিয়ে থাকেন। তিনি বলেন, সুদের এই ব্যবসা ইসলামে হারাম, কিন্তু আমাদের মতো মানুষদের আর্থিক অবস্থা যেহেতু সীমিত, তাই আমরা অন্যদের সাহায্য করার নামে ঋণ দেই। তবে এটি প্রায়শই ঋণগ্রহীতাদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সায়েমা হক বিদিশা বলেন, এই অনানুষ্ঠানিক ঋণব্যবস্থা শহরের দরিদ্র জনগণকে বৈধ আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে দূরে রাখে। এভাবে তারা চরমভাবে শোষিত হয়। অনেক ক্ষুদে ব্যবসায়ী ঋণ চুকাতে না পারলে বাড়ি বিক্রি, দোকান বন্ধ বা পারিবারিক সম্পত্তি বন্ধক রাখতে বাধ্য হন। সাধারণ মানুষের জীবনে এই সুদ-ঋণের চক্র ধীরে ধীরে মানবিক বিপর্যয় তৈরি করছে।
উল্লেখ্য, এই মহাজনদের কার্যক্রম ১৯৪০ সালের মানিল্যান্ডার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী বৈধ নয়। তবে নিয়মিত নজরদারি ও পুলিশি হস্তক্ষেপ না থাকায় তারা উন্মুক্তভাবে ঋণ এবং সুদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সুদের টাকা আদায়ে বৃদ্ধকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন
কুমিল্লার চান্দিনায় সুদের টাকা আদায়ের জন্য আলী আকবর (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনার মূল অভিযুক্ত বোরহান উদ্দিনকে (২৫) আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত সংবাদটি প্রকাশিত হয়, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ভাইরাল ওই সংবাদের সূত্র ধরে রাতে বৃদ্ধকে নির্যাতনকারী সুদের কারবারি বোরহানকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চান্দিনা থানার ওসি জাবেদ উল ইসলাম।
বোরহান উদ্দিন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। এ বিষয়ে চান্দিনা থানার ওসি জাবেদ উল ইসলাম বলেন, চান্দিনা থানার রসুলপুর গ্রামে সুদের টাকা আদায়ের জন্য এক বৃদ্ধকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনার সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, বোরহান দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকায় সুদে টাকা বিনিয়োগ করেন। আলী আকবর তার ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে বোরহানের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় সোমবার সকালে তাকে বাড়ি থেকে ধরে এনে রাস্তার পাশের একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়।
সুদের আগুনে পুড়ছে ফরিদগঞ্জ
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার উপাদিক গ্রাম এখনো উত্তপ্ত। সুদের টাকার জেরে গৃহবধূ শাহনাজ বেগমকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার রেশে পুরো গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভ। গত বুধবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে শাহনাজের মৃত্যু এবং সন্ধ্যায় বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে অভিযুক্ত নাছিমা বেগমের ঘরে অগ্নিসংযোগ-এই দুই ঘটনায় এলাকায় ‘সুদের আগুন’ যেন ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফরিদগঞ্জসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে কিছু নারী-পুরুষ অবৈধভাবে সুদের ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। দারিদ্র্য ও সংকটে পড়া মানুষ তাঁদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ সুদে ফেরত দেন। কেউ দিতে না পারলে হুমকি, অপমান এমনকি সহিংসতাও ঘটে। শাহনাজ বেগমের মৃত্যুর পর স্থানীয়দের দাবি, এসব সুদের কারবার বন্ধে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।
ফরিদগঞ্জ থানার ওসি শাহ্ আলম জানান, মূল অভিযুক্ত নাছিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উত্তেজনা রয়ে গেছে। স্থানীয় এক প্রবীণ ব্যক্তি সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত শুক্রবার রাতে প্রতিবেশী নাছিমা বেগম (৪২) ও তাঁর লোকজন সুদের টাকার জন্য কেরোসিন ঢেলে শাহনাজ বেগমের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন। এ ঘটনায় করা মামলায় নাছিমাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সুদ শুধু টাকা খায় না, মানুষের বিবেকও পুড়িয়ে দেয়।”
উল্লেখ্য, ফরিদগঞ্জসহ চাঁদপুরের বিভিন্ন গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে চলছে অবৈধ সুদের কারবার। আর্থিক কষ্টে পড়ে অনেক পরিবার এসব সুদখোরের জালে আটকা পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। কেউ সময়মতো টাকা ফেরত দিতে না পারলে শুরু হয় মানসিক নির্যাতন, হুমকি এমনকি শারীরিক সহিংসতাও। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও এসব চক্র আবার নতুনভাবে সক্রিয় হয়ে পড়ে। শাহনাজ বেগমকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা সেই দীর্ঘদিনের নীরব সামাজিক আগুনেরই বিস্ফোরণ।
মসজিদের সামনেও চলে নির্যাতন!
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে পাওনা সুদের টাকা না দেওয়ায় এক বৃদ্ধকে জুম্মার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশ গিয়ে ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (৩ অক্টোবর) দুপুর দুইটার দিকে উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের কালিদাসনিলী গ্রামে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, কালিদাসনিলী গ্রামের মোজাম আলী (৭০) প্রতিদিনের মতো শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়তে বাড়ির পাশের মসজিদে যান। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় একই গ্রামের আলাল (৩৫), আব্দুল মোন্নাফ (৩৬), শামসুল হক (৪০) ও শিহাব উদ্দিনসহ কয়েকজন তার পথরোধ করে। তারা মোজাম আলীর প্রবাসী ছেলের কাছ থেকে নেওয়া সুদের ওপর ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। কিন্তু মোজাম আলী জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা তার হাতে থাকা লাঠি কেড়ে নিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে চড়-থাপ্পড় ও লাঠিপেটা করে তাকে টেনে-হিঁচড়ে আলালের বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখে। খবর পেয়ে তাড়াশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবুল হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মোজাম আলীকে উদ্ধার করেন।
তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তবে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।”
স্থানীয়দের ভাষায়, সুদের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরেই উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। তবে মসজিদের সামনেই একজন বৃদ্ধকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনা এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
সুদের টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় জমি দখলের চেষ্টা
কিশোরগঞ্জে সুদের টাকা পরিশোধে ব্যর্থতাকে কেন্দ্র করে জমি দখলের চেষ্টা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে পৌর বিএনপি নেতা মো. রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে অভিযুক্ত রুবেলের বিরুদ্ধে। শনিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে ভুক্তভোগী সাবেক জেলা বিএনপির সদস্য নূর মোহাম্মদ আতাউল হক তানভীর কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এর আগে শুক্রবার রাতে শহরের গাইটাল ফার্মের মোড়ে তানভীরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক প্রয়োজনে আতাউল হক তানভীর অভিযুক্ত রুবেলের নানুর কাছ থেকে সুদের ওপর পাঁচ লাখ টাকা ধার নেন। গত নয় মাস ধরে নিয়মিত ৪০ হাজার টাকা সুদ পরিশোধ করলেও সম্প্রতি তা পরিশোধে ব্যর্থ হন তিনি। এর জের ধরে গত শুক্রবার রাতে রুবেল হোসেন তার দলবল নিয়ে তানভীরের বাড়ির দেয়াল ভেঙে জমি দখলের চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দখল প্রক্রিয়া থেমে যায়।
ভুক্তভোগী নূর মোহাম্মদ আতাউল হক তানভীর বলেন, রুবেল দীর্ঘদিন ধরে আমাদের পারিবারিক জমি দখলের ষড়যন্ত্র করে আসছে। সে বারবার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে আমাদের হয়রানি করছে।
পৌর বিএনপি'র সভাপতি আমিনুল ইসলাম আশফাক বলেন, ‘আমি ক্লিয়ার বলছি শুধু রুবেল না এর চেয়ে বড়ও যদি কেউ হয় আমি কোনো দিন এটা মেনে নিবো না। আমি সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম সাহেবের সাথে কথা বলছি তিনি আমাকে সিরিয়াসলি জানিয়েছেন এই ধরনের দখলদারি বরদাস করা হবে না। কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি রুবেলের নানুর কাছ থেকে জেনেছি। পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো ধরনের জায়গা দখল করতে পারবে না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুবেল হোসেন বলেন, ‘তানভীর আমার নানুর কাছ থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকা নিয়েছেন। আমি কোনো জায়গা জবর দখল করিনি। বরং তিনিই আমাকে বলেছেন, ওই জায়গার বাউন্ডারি ভেঙে দোকান ঘর নির্মাণ করতে। শর্ত ছিল যখন তিনি আমাকে টাকা ফেরত দিতে পারবেন, তখন আমি জায়গাটি ছেড়ে দেব। সেই অনুযায়ী আমি দোকানে কাজ করছি। বিষয়টি এলাকার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে তানভীর ভাইয়ের সঙ্গে আলোচনা করেই করা হয়েছে।’
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স