ফটিকছড়িতে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ১৪ দফা অঙ্গীকার
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০১-১০-২০২৫ ১২:৪৩:০৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০১-১০-২০২৫ ১২:৪৩:০৯ অপরাহ্ন
সংবাদচিত্র: সংগৃহীত
ফটিকছড়ি উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি, বিদ্যুতের ভোগান্তি থেকে মুক্তি। সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিত দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকা, অতিরিক্ত (ভুতুড়ে) বিল, এবং সরকারি সেবা পেতে দালালদের দৌরাত্ম্যের মতো নানা সমস্যা বাড়লে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী বিষয়টি বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড-এর দৃষ্টিগোচর করেন। এর প্রেক্ষিতে, চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার, ২ জোনাল অফিসের ডিজিএম, ২ সাব জোনাল অফিসের এজিএমসহ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের সামনে এক শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন।
দীর্ঘ আলোচনা ও জনগণের অভিযোগ শোনার পর, জেনারেল ম্যানেজার পল্লী বিদ্যুৎ-এর সেবা উন্নত করতে নিম্নোক্ত ১৪ দফা সেবা প্রদানে আনুষ্ঠানিকভাবে অঙ্গীকার করেন:
সেবা ও বিল সংক্রান্ত অঙ্গীকার:
১. নতুন বিদ্যুৎ সংযোগে ফ্রি সার্ভিস তার সরবরাহ করা হবে।
২. মিটারের রিডিং দেখে শতভাগ বিল করা হবে, কোনো অতিরিক্ত বিল (ভুতুড়ে বিল) করা হবে না। অতিরিক্ত বিল দেওয়া হলে অভিযোগের সাথে সাথে তা সংশোধন করা হবে।
৩. নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১টি বিদ্যুৎ খুঁটি ফ্রি সরবরাহ করা হবে।
৪. ১৩০ ফুট দূরত্বের মধ্যে নতুন খুঁটি ছাড়াই নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে।
৫. নষ্ট বা ভেঙে পড়া মিটার দ্রুত পরিবর্তন করা হবে।
৬. গ্রাহকের প্রয়োজনে বিদ্যুৎ-এর খুঁটি স্থানান্তর দ্রুততম সময়ে সম্পাদন করা হবে।
অবকাঠামো ও লোডশেডিং নিরসনের অঙ্গীকার:
৭. মেয়াদোত্তীর্ণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ তার ও খুঁটি পরিবর্তনের আবেদন দিলে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে বিনা খরচে পরিবর্তন করা হবে।
৮. আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে হাটহাজারী গ্রিডের ত্রুটিপূর্ণ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করা হবে।
৯. আগামী সেচ মৌসুম এবং গ্রীষ্ম মৌসুমের পূর্বেই হাটহাজারী-ফটিকছড়ি লাইনের ওভারলোড নিরসন করা হবে।
১০. পার্শ্ববর্তী উপজেলার তুলনায় লোডশেডিং-এর বৈষম্য নিরসন করা হবে। প্রয়োজনে পিজিসিবির ন্যাশনাল লোড ডেসপাস সেন্টারকে (NLDC) জানানো হবে।
১১. হাটহাজারী এবং রাউজান উপজেলা নির্ভরতা এড়াতে যত দ্রুত সময়ে সম্ভব ফটিকছড়িতে গ্রিড সাবস্টেশন স্থাপন করা হবে।
সেবার মান উন্নয়ন ও স্বচ্ছতার অঙ্গীকার:
১২. অভিযোগ কেন্দ্রে যোগাযোগের সুবিধার্থে অতিরিক্ত একটি নাম্বার যুক্ত করা হবে। এর পাশাপাশি এজিএম এবং ডিজিএম-এর নাম্বার প্রচার করতে হবে এবং সার্বক্ষণিক ফোন রিসিভ নিশ্চিত করতে হবে।
১৩. বিদ্যুৎ অফিসে দালাল মুক্ত সেবা প্রদানের জন্য দালালদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
১৪. জরুরি বিদ্যুৎ সেবা প্রদানে গাফিলতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সময়সীমা ও বাস্তবায়ন:
কর্তৃপক্ষ অঙ্গীকার করেন যে, উপরোক্ত দাবিগুলো পূরণের জন্য আগামী ৭ (সাত) দিনের মধ্যে প্রত্যেক অফিসের সামনে আপডেটেড সিটিজেন চার্টার স্থাপন করা হবে। এই চার্টারে দায়িত্ববান কর্মকর্তার নাম ও নাম্বার, অভিযোগ প্রদানের নাম্বার, এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ও নাম্বার স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে।
ফটিকছড়ির জনগণ আশা করছেন, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের এই অঙ্গীকার দ্রুত বাস্তবায়ন হবে এবং দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।
এই প্রতিবেদনটি ফটিকছড়ি উপজেলার বিদ্যুৎ সমস্যা নিয়ে কর্তৃপক্ষ ও জনগণের মধ্যেকার শুনানির ফলাফলকে তুলে ধরেছে। এটি জনগণের কাছে কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুত সেবার মানদণ্ড ও সময়সীমা স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেবে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স