ইরানের ওপর ফের জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২৮-০৯-২০২৫ ০২:২১:৩৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৮-০৯-২০২৫ ০২:৫৮:৪১ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘ আবারও ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ১০ বছর আগে ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তির কারণে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়া চালু করে নিষেধাজ্ঞা ফের কার্যকর করে। তাদের অভিযোগ, ইরান চুক্তির শর্ত মানছে না এবং পরমাণু কর্মসূচি আরও বাড়াচ্ছে।
চুক্তি অনুযায়ী ইরানকে তার পরমাণু স্থাপনা আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের জন্য খুলে দিতে হতো। কিন্তু গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক কেন্দ্র ও সামরিক ঘাঁটিতে বোমা হামলা চালালে ইরান সেই পরিদর্শন বন্ধ করে দেয়।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তাদের দেশের পরমাণু অস্ত্র বানানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে তিনি নতুন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অন্যায্য, বেআইনি ও অন্যায়’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
২০১৫ সালের চুক্তি (জেসিপিওএ) অনুযায়ী, ইরান কতটা ইউরেনিয়াম মজুদ করতে পারবে, কোথায় পরমাণু স্থাপনা গড়তে পারবে এবং কতটা গবেষণা চালাতে পারবে—তার সবকিছুর সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। মূল লক্ষ্য ছিল ইরানকে শান্তিপূর্ণ বিদ্যুতের জন্য পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে দেওয়া, কিন্তু অস্ত্র বানাতে না দেওয়া।
কিন্তু ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে চুক্তি থেকে সরে যান। এরপর থেকেই ইরান নিষিদ্ধ কর্মসূচি আবার জোরদার করতে শুরু করে। ট্রাম্প বরাবরই এই চুক্তিকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলে সমালোচনা করেছেন এবং নতুন শর্তে ভালো চুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
চলতি বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। তাদের দাবি, এতে ইরানের বড় ক্ষতি হয়েছে। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ এই দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
ইউরোপীয় দেশগুলো এখনো আশা করছে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানো যাবে। তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইরান যেন কোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ না নেয়। নিষেধাজ্ঞা ফিরিয়ে আনা মানে কূটনীতি শেষ হয়ে যাওয়া নয়।’
জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে ইউরোপের তিন দেশ ইরানের সঙ্গে আলোচনা করলেও কোনো সমাধান আসেনি। ফলে তাদের দাবি, ইরান বারবার অঙ্গীকার ভঙ্গ করায় নিষেধাজ্ঞা ফেরানোর ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না।
ইরানকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর সঙ্গে সহযোগিতা না করার অভিযোগও আনা হয়েছে। বলা হয়েছে, ইরান উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়ামের মজুদ সংক্রান্ত রিপোর্ট দেয়নি এবং পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতিও দেয়নি। তবে শুক্রবার আইএইএ জানিয়েছে, পরিদর্শন আবার শুরু হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা ফিরলে আলোচনার পথ ঝুঁকিতে পড়বে। তিনি চান, ইসরায়েল আর যেন তাদের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা না চালায়, সে বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে হবে। তবেই তেহরান স্বাভাবিকভাবে পরমাণু কর্মসূচি চালাতে পারবে।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে প্রস্তাব দিয়েছিল—সব ইউরেনিয়ামের মজুদ তুলে দিলে তিন মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল রাখা হবে। তবে পেজেশকিয়ান এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘আমরা কেন নিজের গলায় ফাঁস পরব, আর প্রতি মাসে সেটি আরও টেনে ধরার সুযোগ দেব?’
পশ্চিমা শক্তি ও আইএইএ এখনো বিশ্বাস করছে না যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স