ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ , ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​পরিবেশ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি

গলার কাটা অটোরাইস মিল, হুমকিতে পরিবেশ-জনস্বাস্থ্য

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২২-০৯-২০২৫ ০৫:৪৫:১১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২২-০৯-২০২৫ ০৫:৪৫:১১ অপরাহ্ন
গলার কাটা অটোরাইস মিল, হুমকিতে পরিবেশ-জনস্বাস্থ্য ​সংবাদচিত্র : ফোকাস বাংলা নিউজ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পরিবেশ আইনের তোয়াক্কা না করে আবাসিক, জনবহুল এলাকা ও তিন ফসলী জমিতে পর্যন্ত গড়ে উঠেছে অটোরাইস মিল। এতে ওই এলাকার পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। এসব রাইস মিলের বর্জ্যে ফসলি জমি, খালের পানি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এলাকার বাসোপযোগী পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। অটো রাইস মিলের ধোঁয়া ও ছাইয়ে খাল, কৃষিজমি ভরাট হয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ছে। বয়স্ক ও শিশুরা রাইস মিলের ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টে ভুগছে। পরিবেশ প্রতিবেশ বিনাশী এসব অটো রাইস মিল জনবহুল এলাকা থেকে স্থানান্তরের দাবি সাধারণ মানুষের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কলাপাড়া পৌরশহরের আবাসিক এলাকায় একাধিক অটোরাইস মিল স্থাপন করা হয়েছে। যার ধোঁয়া ছাইয়ের কারণে আশপাশের মানুষের জীবনযাপন অসহনীয় হয়ে উঠেছে। গাছপালা পর্যন্ত মরে যাচ্ছে। বাতাসের সঙ্গে ছাই মানুষের ঘরে পর্যন্ত প্রবেশ করছে। পৌরশহর ছাড়াও কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে মোস্তফাপুর এলাকায় একটি অটো রাইসমিল রয়েছে। এই মিলের বর্জ্য ও ছাইয়ে আশপাশের কৃষিজমি ভরাট হয়ে গেছে। ছাইয়ের কারণে একটি ড্রেনেজ খাল ভরাট হয়ে গেছে। অনবরত পাশের কৃষিজমির ক্ষতি হচ্ছে। মানুষের বসবাসে সমস্যা হচ্ছে। এই মিলের পাশেই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ধোঁয়ার কারণে সাধারণ মানুষের কষ্ট হচ্ছে। 

নিয়ম রয়েছে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন সম্পন্ন করে নির্দিষ্ট ডিজাইন অনুসারে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপন করেই অটোরাইস মিল স্থাপন করার কথা। প্রতিষ্ঠানের সৃষ্ট তরল বর্জ্য, ছাই ও ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনায় গৃহীত কোন কার্যক্রম এসব রাইসমিলে দৃশ্যমান নেই। সবকিছু উপেক্ষা করা হয়েছে। খোলা মাঠে ফসলি জমিতে কিংবা ড্রেনেজ খালে ছাইয়ের স্তুপ পড়ে আছে। মিল চলাকালে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হচ্ছে অনবরত। ছাইয়ের বর্জ্য বাতাসের সঙ্গে মানুষের বাসাবাড়িতে পর্যন্ত ঢুকছে। ঘরের দরজা-জানালা পর্যন্ত খুলতে পারছে না। ছাইয়ের বর্জ্য টিনের চালে পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি, দোকানপাট ঘনবসতি এলাকায় ও কৃষি জমিতে এসব অটো রাইসমিল স্থাপন করা হয়েছে। জনজীবন ও পরিবেশ হুমকির মুখে পতিত হয়েছে।

কলাপাড়া পৌরসভার নয় নং ওয়ার্ডের মানুষ এই পরিবেশবিনাশী বয়লার রাইস মিলের দূষণ বন্ধে ইতিপূর্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। কিন্তু কোন প্রতিকার মেলেনি। এসব নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তরের দৃশ্যমান কোন মনিটরিং আজ অবধি কেউ দেখেননি।

কলাপাড়া উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. নুরুল্লাহ জানান, কলাপাড়ায় তিনটি বয়লার অটো রাইসমিল রয়েছে। যার মধ্যে একটি বন্ধ হয়ে আছে। এছাড়া হাস্কিং টাইপের ১০টি রাইস মিল রয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর পটুয়াখালীর সহকারী পরিচালক লোভানা জামিল জানান, পরিবেশ আইন উপেক্ষা করে কেউ অটো রাইসমিল পরিচালনা করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরিবেশবিনাশী কর্মকাণ্ড করা যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।


বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচএইচ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ