জীবন হাতে নিয়েই গন্তব্যে ছুটছে মানুষ
সড়ক যেন নরক পথ!
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৯-০৯-২০২৫ ০৮:৩৭:০২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৯-০৯-২০২৫ ০৮:৩৭:০২ অপরাহ্ন
সংবাদচিত্র: সংগৃহীত
দেশের নানা অঞ্চলের সড়ক এখন জনজীবনের বড় দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। খানাখন্দে ভরা ভাঙাচোরা এসব রাস্তায় প্রতিদিনই মানুষকে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে জীবন হাতে নিয়ে। বৃষ্টি হলে কাদা, রোদে ধুলায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে পথচারী ও যানবাহন চালকরা। বেহাল সড়কে চলাচল মানেই যেন প্রতিদিন নরক পথ পাড়ি দেওয়া। লক্ষ্মীপুর, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ ও যশোরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পরিস্থিতি এমনই ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। শুক্রবার ( ১৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাস্কুপের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত-
লক্ষ্মীপুরে ১১০ সড়কই ভাঙাচোরা:
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান- লক্ষ্মীপুর পৌরসভা প্রথম শ্রেণির হলেও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা একেবারে নাজুক। পৌর এলাকার বেশিরভাগ ওয়ার্ডের সড়কগুলো দীর্ঘ সময় মেরামত না করায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিগত সময়ে পৌরসভার মেয়র পদে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারা সড়ক সংস্কারে তেমন কোনও উদ্যোগ নেননি বলে অভিযোগ পৌরবাসীর। ফলে ভাঙাচোরা সড়কে চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পৌরসভার মোট ১১০টি সড়ক ভাঙাচোরা। যার বেশিরভাগ সড়ক গত ১০ বছরের বেশি সময় ধরে সংস্কার করা হয়নি। এগুলো দ্রুত সংস্কার করতে হবে। এজন্য প্রায় ৭০ কোটি টাকা প্রয়োজন, যা পৌরসভার তহবিলে নেই। ফলে সংস্কার করা যাচ্ছে না। সম্প্রতি শহরকেন্দ্রিক কিছু সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বরাদ্দের অভাবে শহরের বাইরের সড়কগুলো থেকে যাচ্ছে সংস্কারের বাইরে। এ অবস্থায় জরাজীর্ণ সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
সরেজমিনে পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, জরাজীর্ণ এবং খানাখন্দে ভরা সড়কে কোনোমতে চলছে যানবাহন। কোনও কোনও সড়ক ১০-১৫ বছরেও সংস্কার করা হয়নি। আবার কোনও সড়ক পৌরসভার আওতাভুক্ত হওয়ার পরও একবারের জন্যও সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি। বিশেষ করে পৌরসভাকে ১২টি ওয়ার্ড থেকে ১৫টিতে উন্নীত করা হলেও নতুন ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ড নামমাত্র পৌরসভার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তখনকার জনপ্রতিনিধিরা নতুন এলাকাগুলোর সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেননি। আর কাঁচা সড়কে ইটের সলিং করা হলেও সেগুলোর বর্তমান অবস্থা একেবারে নাজুক হয়ে আছে। এর মধ্যে ৮ নম্বর ওয়ার্ডটির সড়ক ব্যবস্থা একেবারে নাজুক। পৌরসভার আওতাধীন সড়কের পাশাপাশি এ ওয়ার্ডে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সড়কও রয়েছে। বাজার ব্রিজের দক্ষিণে গো-হাটা সড়ক থেকে তেরবেকী সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের। লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থী এবং যানবাহনকে সড়কটি দিয়ে দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করতে হয়।
ভোগান্তির কথা জানিয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাসান মাহমুদ শাকিল বলেন, ‘আমাদের এলাকার প্রায় সবগুলো সড়কে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি হলে পানি জমে পুকুরে পরিণত হয়। জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা হলেও সড়ক ব্যবস্থা একেবারে বেহাল হওয়ায় ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি কলেজের আশপাশে পৌরসভার আওতাধীন আরও কয়েকটি সড়কও ভাঙাচোরা। যেগুলো দীর্ঘ সময় সংস্কারের অভাবে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। কোনও একটি সড়ক ঠিক নেই।’ একই কথা বলেছেন ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নিজাম হোসেন। তিনি বলেন, ‘বিগত সময়ে সংস্কার না করায় পৌরসভার সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এগুলো দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।’ ২ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত পৌর আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী আবিদা সুলতানা বলেন, ‘কলেজে আসা-যাওয়ার একমাত্র সড়ক মেঘনা সড়ক। এটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে রিকশাও চলাচল করতে চায় না। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হলে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় লোকজনের চলাচলের সুবিধা হতো।’ তবে অর্থ সংকটের মাঝেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান পৌর কর্তৃপক্ষ। ১০ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তিগঞ্জ থেকে ডিবি সড়ক হয়ে রামগতি সড়কের আধুনিক হাসপাতাল সংলগ্ন লিংক সড়ক এবং মটকা মসজিদ থেকে পূর্ব দিক হয়ে দক্ষিণে পলিটেকনিক পর্যন্ত সড়কটি সংস্কারের কাজ কিছুদিনের মধ্যে শুরু হবে। এতে দীর্ঘ সময়ের দুর্ভোগ লাগব হবে ১০ ও ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের।
জরাজীর্ণ সড়ক সংস্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. জসীম উদ্দিন বলেন, ‘১১০টি সড়ক সংস্কার করতে হলে ৭০ কোটি টাকার মতো প্রয়োজন। আর ড্রেনসহ সংস্কার করতে আরও ৩০ কোটি টাকা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে ১০০ কোটি টাকা হলে পৌরসভার আওতাধীন ১১০টি সড়ক সংস্কারের কাজ করা সম্ভব হবে। কিন্তু আমাদের তহবিলে সড়ক সংস্কারের জন্য এত পরিমাণ অর্থ নেই। এক কোটি ২০ লাখ থেকে ৩০ লাখ টাকা রয়েছে, যা একেবারে যৎসামান্য।’ তিনি বলেন, ‘ভোঙাচোরা সড়কগুলোর তালিকা তৈরি করা হয়েছে। বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে। এ ছাড়া বিশ্ব ব্যাংক ও এডিবিসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছেও সহযোগিতা চাওয়া হবে।’
বর্ষা হলেই হাটুজলে বাড়ে ভোগান্তি:
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান- সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের নওয়াবেকী বাজার থেকে গাঁতিদার সেতু পর্যন্ত সড়কটি এখন জনভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কাজ অসম্পূর্ণ ও ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। খানাখন্দে ভরা রাস্তায় বর্ষায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়, আর রোদে ধুলাবালি উড়ে চারপাশে অন্ধকার হয়ে ওঠে। সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, ইটের খোয়া ছড়িয়ে আছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জমে যায় হাঁটু পানি, আবার রোদ হলেই ধুলায় পথচারী ও স্থানীয়দের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘আমরা প্রায় দুই থেকে তিন বছর ধরে এ ভোগান্তি পোহাচ্ছি। ঘরে বসবাসও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ধুলার কারণে নাক-মুখে সমস্যা হচ্ছে, শ্বাসকষ্ট বেড়েছে। মনে হচ্ছে এলাকা ছেড়ে না গেলে বাঁচা যাবে না।’ পথচারী ও শ্রমজীবী মানুষও চরম ভোগান্তির শিকার। ভ্যান ও মোটরযান চালকরা বলেন, ‘রাস্তার ওপর বড় বড় ইটের খোঁয়া থাকায় গাড়ি নষ্ট হচ্ছে। প্রতিদিনই গাড়ি মেরামত করতে হচ্ছে।’ স্থানীয় কৃষক মো. আব্দুল খালেক বলেন, ‘এ রাস্তা দিয়ে বাজারে ধান-চাল নিয়ে যাওয়া যায় না। ভ্যান উল্টে যায়, ট্রলি আটকে যায়। দুই বছর ধরে কষ্ট করছি, কেউ সমাধান করছে না।’ স্থানীয় বাসিন্দা গৃহবধূ রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘বাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ করেও ধুলাবালি আটকানো যায় না। ঘরের ভেতরে রান্না করা দায় হয়ে পড়েছে। ছোট বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেছে।’
ভ্যানচালক আজিজুল বলেন, ‘রাস্তায় বড় বড় খোয়া পড়ে আছে। ভ্যানের চাকা নষ্ট হয়, যাত্রী নিতে পারি না। দিনে এক-দুই ট্রিপের বেশি কাজ হয় না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে।’ পথচারি সেলিম মল্লিক বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলে পানি জমে হাঁটু পর্যন্ত ওঠে। তখন হেঁটে চলা যায় না। আবার রোদ হলে ধুলার ঝড় ওঠে। এই রাস্তায় চলাচল মানেই ভোগান্তি।’ স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহিনুর রহমান বলেন, ‘দোকান চালাতে পারি না। গ্রাহক আসতে চায় না এ রাস্তা দিয়ে। ব্যবসা একেবারে মন্দা হয়ে গেছে। আমরা বারবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু কাজের অগ্রগতি নেই।’ আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সালেহ বাবু বলেন, ‘বারবার ঠিকাদারকে কাজ শেষ করার জন্য বলেছি। এমনকি উপজেলা মাসিক মিটিংয়ে বিষয়টি তুলেছি। তবুও কাজ হচ্ছে না। এতে জনগণ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে।’ এ বিষয়ে ঠিকাদার নুরুল হক মোল্লার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. রনি খাতুন বলেন, ‘রাস্তার কাজ নিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন না হয়, তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের ভোগান্তি দূর করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
আড়াই কিলোমিটার সড়কে ১৮ গতিরোধক:
সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান- যানবাহন চালকদের বেপরোয়া গতিতে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। মানুষের জীবনের ঝুঁকি এড়াতে কিংবা দুর্ঘটনা কমাতে অধিকাংশ সড়কে স্পিডব্রেকার (গতিরোধক) নির্মাণ করা হয়। যা জনস্বার্থের কাজ। তবে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে উপকারের পরিবর্তে এটি বিপত্তিরও কারণ হয়ে উঠে। তেমনই ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায়। প্রায় আড়াই কিলোমিটারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ১৮টি গতিরোধক দেওয়া হয়েছে। যার ফলে প্রায়শই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পৌরসভার উদ্ববগঞ্জ থেকে আনন্দবাজার পর্যন্ত সড়কের দূরত্ব প্রায় আড়াই কিলোমিটার। শতবছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী আনন্দবাজারে পৌঁছাতে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। তবে, স্বল্প দূরত্বের সড়কে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত স্পিডব্রেকার থাকায় মানুষের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পুরো সড়কজুড়ে ১৮টি গতিরোধক নির্মাণ করা হয়েছে। যার একটিতেও এখন সতর্কতা মার্কিং চিহ্ন দেখা যায়নি। বেশিরভাগ গতিরোধক ১০০ গজ দূরত্বে নির্মাণ করা হয়েছে। আবার কয়েকটি তো ৭৫-৮০ গজেরও কম দূরত্বে হবে। ফলে এ গতিরোধকের কারণে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
সাগর নামক এক অটোরিকশা চালক বলেছেন, রাস্তায় এতোগুলো স্পিডব্রেকার থাকায় চলাচলে সমস্যা হয়। জায়গায় জায়গায় আইল্যান্ড দেওয়ায় গাড়ির পার্স ভেঙে যায়, মটর জ্বলে যায়। এগুলো কমানো উচিত। বিল্লাল নামক এক সিএনজি চালক বলেন, চৌরাস্তা থেকে আনন্দবাজার পর্যন্ত অল্প রাস্তা সত্বেও এখানে অতিরিক্ত স্পিডব্রেকার দেওয়া হয়েছে। যার কারণে জরুরি কোনো রোগী নিয়ে যাতায়াত করা যায় না। ঘন ঘন স্পিডব্রেকার থাকায় থাকা কিছুক্ষণ পরপর ব্রেক করা লাগে। যার কারণে চরম অসুবিধা হয়। এ রাস্তায় স্পিডব্রেকার কামানোর দাবি জানাই। তরুণ অটোরিকশা চালক সবুজ বলে, যাতায়াতের সময় গাড়ি ঝাঁকি খাওয়ায় যাত্রীদের অনেক সমস্যা হয়। এগুলো কমালে আমাদের জন্য ভালো হয়। সড়কটি দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে যাতায়াত করেন স্থানীয় বাসিন্দা হুমায়ুন কবির। তিনি বলে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছন থেকে আনন্দবাজার বহুত স্পিডব্রেকার দেওয়া। মোটরসাইকেল নিয়ে গেলে মাঝে মধ্যে স্যালেঞ্জার পাইপ আটকে যায়। রোগীদের জন্য স্পিডব্রেকারগুলো বিষফোঁড়া।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা রহমান বলেন, উদ্ববগঞ্জ-আনন্দবাজার সড়কে এতোগুলা স্পিডব্রেকার রয়েছে তা জানা নেই। এ বিষয়ে নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে আলাপ করবো। নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রহিম জানান, যেকোনো সড়কে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় স্পিডব্রেকার নির্মাণ করা হয়। মানুষকে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে এটি করা হয়। উপজেলাটিতে বিভিন্ন বিনোদন স্পষ্ট আর শিল্প কারখানা থাকায় জনস্বার্থে স্পিডব্রেকার দেওয়া হয়েছে। গাড়ি চালকদের বেপরোয়া গতি কমানোর উপায় এটিই। বেশিরভাগ স্পিডব্রেকার ১০০ গজের দূরত্বে থাকার প্রশ্নে তিনি বলে, হ্যা ওইসব সড়কে ১০০ গজ দূরত্বই দেওয়া হয়। তবে, স্পিডব্রেকারগুলোতে মার্কিং চিহ্ন না থাকলে আমরা এটি করে দিবো।
খানাখন্দ আর উঁচু-নিচু ঢিবিতে দুর্ঘটনার শঙ্কা:
যশোর প্রতিনিধি জানান- যশোর শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পালবাড়ি-মনিহার মহাসড়ক দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বেহাল হয়ে পড়েছে। প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি এখন চলাচলের জন্য খুবই অনুপযোগী। খানাখন্দ, উঁচু-নিচু ঢিবি ও গর্তের কারণে প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এ কারণে যানজটও এখন এই সড়কের নিত্যদিনের চিত্র। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্নস্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ঘোষপাড়া, কাঁঠালতলা ব্রিজ সংলগ্ন মহাসড়কে উঁচু-নিচু ঢিবি ও খানাখন্দে ভরা। এছাড়া সাবেক মানসী সিনেমা হলের বিপরীতে পেট্রোল পাম্পের সামনে সড়কের অবস্থাও বেহাল। বৃষ্টির পর এসব গর্তে পানি জমে থাকে। ফলে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। সড়কটি যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত।
প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এই পথে চলাচল করে। কিন্তু রাস্তার বেহাল অবস্থায় দুর্ভোগের শেষ থাকে না। বিশেষ করে ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, রিকশা ও সিএনজিচালিত যানবাহন গর্তে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আবার গর্তে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় সতর্কতার সাথে যানবাহন চলাচল করছে। এতে যানজট লেগে থাকে সড়কটিতে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার বছরখানেকের মধ্যেই ওই সড়কের বুকে অধিকাংশ অংশে ফুলে-ফেঁপে বড় ঢিবি হয়ে যায়। কোন কোন অংশে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। ঢিবিতে যানবাহনের নিচের অংশ বেঁধে যায়। এ রাস্তা দিয়ে খুলনা, ঢাকা, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ভারি যানবাহন চলাচল করে। এছাড়া নওয়াপাড়া বন্দরের সারবোঝাই ট্রাকও এ সড়ক দিয়ে যায় উত্তরবঙ্গে। রাস্তার করুণ অবস্থা হওয়ায় চালকদের গাড়ি চালাতে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে।
ট্রাকচালক সাগর হোসেন বলেন, এই রুট দিয়ে নড়াইল মাগুরা, ফরিদপুর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, মেহেরপুরসহ আশপাশের জেলা থেকে ঢাকাগামী অসংখ্য গাড়ি যাতায়াত করে। অথচ রাস্তার করুণদশায় প্রতিদিন বিভিন্ন গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। সংস্কারে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ইজিবাইকচালক রাশেদুল ইসলাম বলেন, রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে আমাদের গাড়ি প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে। অনেক যাত্রী এই রাস্তা দিয়ে যেতে চান না। আমাদের আয় অর্ধেক কমে গেছে। এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা তাহসিন রাফি বলেন, এ এলাকার রাস্তা টিকছে না। রাস্তা মেরামত করার কয়েক দিনের মধ্যেই পিচ উঠে বড় বড় গর্ত হয়ে যায়। এরপর সেসব স্থানে ইট বিছিয়ে চলাচলের কিছুটা উপযোগী করা হয়। কিন্তু এখন রাস্তার সেসব অংশও নষ্ট হয়ে গেছে। কারণ রাস্তার পানি বের হওয়ার জন্য কোনো ড্রেনের ব্যবস্থা নেই। বৃষ্টির সময় পানি রাস্তার পাশে আটকে থাকে। এ জন্য পিচ নষ্ট হয়ে যায়। দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে মহাসড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হবে বলে ব্যবসায়ী ও সড়কপথ ব্যবহারকারীরা আশা করছেন। যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া বলেন, পালবাড়ি-নিউমার্কেট মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ কোটি টাকা। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বাজেট অনুমোদন হলে দ্রুত কাজ শুরু হবে। বর্তমানে মেরামত করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
বাংলাস্কুপ/ ডেস্ক/ এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স