ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​নুরাল পাগলার আস্তানায় হামলায় নিহত ১, আহত ৫০

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৬-০৯-২০২৫ ১২:১০:৩৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৬-০৯-২০২৫ ১২:১০:৩৯ অপরাহ্ন
​নুরাল পাগলার আস্তানায় হামলায় নিহত ১, আহত ৫০ ​ছবি: সংগৃহীত
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ইমাম মাহাদি দাবিদার নুরাল পাগলার আস্তানায় হামলা চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। তারা আস্তানায় ভাঙচুর চালায় এবং মাজারে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশের দুটি গাড়ি এবং ইউএনওর গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। নুরাল পাগলার অনুসারী ও উত্তেজিত জনতা একে অপরের ওপর ইট-পাথর নিক্ষেপ করে। এতে একজন নিহত এবং অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে।

শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর এ ঘটনা ঘটে। এদিকে নুরাল পাগলার কবর অবমাননা এবং মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বলা হয়েছে, এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলা ও ভাচুরের পর সেনাবাহিনী ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য চেষ্টা করেন। কিন্তু বিকাল চারটার দিকে চারদিক থেকে উত্তেজিত জনতা জড়ো হলে প্রশাসন সরে যেতে বাধ্য হয়। পরে উত্তেজিত জনতা নুরাল পাগলার আস্তানায় ঢুকে পড়ে। তারা বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর চালায় এবং লুটপাট করে নিয়ে যায়। পরে বিক্ষুব্ধরা বিশেষ কায়দায় দেওয়া কবর ভেঙে নুরাল পাগলার মরদেহ নিয়ে মিছিল করতে থাকে। তারা ঢাকা-খুলনা মহাড়কের পদ্মার মোড়ে মরদেহ নিয়ে রাস্তার ওপর পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয়। বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে আবারও সেনাবাহিনী, ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

নুরাল পাগলের অনুসারী ও উত্তেজিত জনতার ইট-পাথর নিক্ষেপে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। আহতদের গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সবাইকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।

এদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গোয়ালন্দের দেবগ্রাম ইউনিয়ন পূর্ব তেনা পচা জুট মিস্ত্রিপাড়ার মো. আজাদ মেম্বারের ছেলে মো. রাসেল মোল্লা (২৮) মারা গেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. শরীফ ইসলাম।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাহিদুল রহমান বলেন, ‘এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আমার গাড়ি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) গাড়ি ভাঙচুর করেছে জনতা। পরে নুরাল পাগলের আস্তানায় হামলা চালিয়ে মরদেহ কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে দিয়েছে। এ সময় সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। তবে সঠিক সংখ্যা বলতে পারছি না। পরিস্থিতি এখন প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

জানা গেছে, নুরাল পাগলার মৃত্যুর পর তার কবর ভিন্ন রীতিতে দেওয়া নিয়ে এলাকায় ধর্মীয় সংবেদনশীলতা তৈরি হয়। কবরটিকে মক্কা শরিফের আদলে নির্মাণ, রঙ করা এবং স্বাভাবিকের তুলনায় অধিক উঁচু করা হয়। এ নিয়ে জেলাজুড়ে আলেম সমাজের মধ্যে উত্তেজনা ও অসন্তোষ দেখা দেয়।

গত ২৩ আগস্ট নুরাল পাগলার মৃত্যুর পর পরিবারের সিদ্ধান্তে নিজ বাড়ির সামনের অংশে প্রায় ১২ ফুট উঁচু একটি কাঠামোর ভেতরে তাকে কবর দেওয়া হয়। পরে কবরটিকে কাবা শরিফের আদলে রঙ করা হয় এবং ‘হজরত ইমাম মাহদী (আ.) দরবার শরিফ’ লেখা ব্যানার টাঙানো হয়। এতে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়।

সরকারের বিবৃতি
এদিকে নুরুল হক মোল্লা ওরফে নুরাল পাগলার কবর অবমাননা ও মরদেহে অগ্নিসংযোগের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে সরকার বলেছে, এই অমানবিক ও ঘৃণ্য কাজটি আমাদের মূল্যবোধ, আমাদের আইন এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সভ্য সমাজের মৌলিক ভিত্তির ওপর সরাসরি আঘাত।

এ ধরনের বর্বরতা কোনো অবস্থায়ই সহ্য করা হবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে এবং প্রত্যেকটি মানুষের জীবনের পবিত্রতা, জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পরও রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আমরা জনগণকে আশ্বস্ত করছি, এই জঘন্য অপরাধে জড়িতদের চিহ্নিত করা হবে এবং আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নয়। যারা এই ঘৃণ্য কাজে যুক্ত, তাদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচএইচ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ