ইনক্রিমেন্ট বঞ্চিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, ডিপিডিসিতে অসন্তোষ
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৮-০৮-২০২৫ ০৩:৪৯:০৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
৩১-০৮-২০২৫ ০১:২৭:৩০ অপরাহ্ন
ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) ১৩৪৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছয়টি ইনক্রিমেন্ট (বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি) থেকে বঞ্চিত রাখায় অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। এই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই অথোরিটি (ডেসা) বিলুপ্ত করে ডিপিডিসি গঠনের সময় সংস্থাটিতে যোগ দিয়েছিলেন।
তাঁরা বলছেন, ডিপিডিসি প্রশাসন গত ১৭ বছর সার্ভিস রুলস মানছে না। স্বৈরাচারী কায়দায় চলছে প্রশাসন। যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্বেও চাকরিতে নিয়মিত না করার পাশাপাশি তাঁদের ন্যায্য পাওনা ইনক্রিমেন্টগুলোও দেয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষ বরাবর একাধিকবার লিখিত আবেদন দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, সংস্থাটির এইচআর দপ্তরের গুটিকয়েক কর্মকর্তা এক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। দ্রুত বিষয়টির সমাধান না হলে কঠোর কর্মসূচির আভাস দিয়েছেন তাঁরা।
ইনক্রিমেন্ট প্রদানের আবেদন জানিয়ে ডিপিডিসি কর্মকর্তা-কর্মচারী সমবায় সমিতির আহ্বায়ক মীর হোসেন পাটোয়ারী গত ৪ ফেব্রুয়ারি ডিপিডিসির চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন জানান। কর্তৃপক্ষের তরফে কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়ায় ৭ মে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব বরাবর ফের আবেদন করা হয়।
লিখিত আবেদন দুটিতে ১৩৪৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী পক্ষে বলা হয়, আমরা ২০০৮ সাল তৎকালীন ডেসায় মাস্টাররোলে বিভিন্ন পদে কর্মরত ছিলাম। ডেসা বিলুপ্ত হয়ে ডিপিডিসি গঠনের সময় অন্যান্য এমপ্লয়িদের মত আমাদেরকেও নিয়োগ পরীক্ষার (ভাইভা) মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে ডিপিডিসিতে নিয়োজন করা হয়।
কিন্তু আমাদের কন্ট্রাকচুয়াল (নিয়মিত) এমপ্লয়িজ হিসেবে নিয়োগ না দিয়ে বিভিন্ন অযুহাতে ক্যাজুয়াল (স্বল্প সময়ের জন্য) এমপ্লয়ি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তদুপরি ২০০৮ এ প্রণীত সার্ভিস রুলস অনুচ্ছেদ ৬.৯.৪ এ বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা সত্বেও ২০০৮ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত (চাকরিতে কন্ট্রাকচুয়াল করার পূর্ব পর্যন্ত) আমাদের মোট ০৬ (ছয়) টি ইনক্রিমেন্ট থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অথচ সেখানে Annual Increment অনুচ্ছেদ ৬.৯.৪ এ বলা ছিল যে, Temporary employee(s)/ Casual employees will also be eligible for annual increment.
এতে তাদের প্রতি চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ওই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বরাবর একাধিকবার লিখিত আবেদন করা হলেও কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি কিংবা কোন উদ্যোগ আমরা দেখতে পাইনি, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এ নিয়ে ভুক্তভোগীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই অসন্তোষ ক্ষোভে রুপান্তরিত হতে পারে বলে শংকা প্রকাশ করেন তাঁরা।
এদিকে, ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (এইচআর) ও প্রশাসন বিভাগের জিএমসহ কয়েকজনের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ইনক্রিমেন্ট দেয়ার ব্যাপারে ইচ্ছা থাকলেও ওই কর্মকর্তাদের কারণে তিনি পেরে উঠছেন না।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এনআইএন/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স