ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​জলবায়ু অভিযোজনে কৃষকের কৌশল, ভাসমান বীজতলা!

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৬-০৮-২০২৫ ০৩:৫৬:৪০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৬-০৮-২০২৫ ০৪:২৭:৪৩ অপরাহ্ন
​জলবায়ু অভিযোজনে কৃষকের কৌশল, ভাসমান বীজতলা! সংবাদচিত্র: সংগৃহীত
অতিবৃষ্টি, নদীভাঙন, লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতায় নাকাল খুলনা উপকূলের কৃষক-কৃষাণীরা। সবশেষ টানা বর্ষণে শুধু খুলনাতেই ফসল, সবজি ও আমনের বীজতলা নষ্ট হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৩ হাজারের বেশি কৃষক।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভাসমান ধানের বীজতলা তৈরি করে সফলতা পেয়েছে খুলনার এক কৃষক পরিবার। এবার চলতি বর্ষা মৌসুমে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতে কয়েক দফা বীজতলা নষ্ট হওয়ায় এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন পাইকগাছা উপজেলার রামনাথপুর গ্রামের কৃষাণী রোকেয়া পারভীন। দেবর আব্দুল কুদ্দুসকে নিয়ে ফেলে দেওয়া কলাগাছ, বাঁশ ও মাটি ব্যবহার করে ভেলা বানিয়ে তৈরি করেছেন বীজতলা। পরীক্ষামূলক বীজতলা সফল হওয়ায় এখন দুর্যোগকবলিত কৃষকদের আশার আলো দেখাচ্ছে।

রোকেয়া পারভীন বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে কয়েক দফায় প্রায় ৭৫ কেজি বীজ ধান নষ্ট হয়ে যায়। এতে আমন চাষ প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এ সময় অ্যাওসেডের কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে কলাগাছের ভেলা বানিয়ে পুকুরের কাদামাটি তুলে ব্রি-৭৫ আমন ধানের বীজ ফেলেছি। একটি বীজও নষ্ট হয়নি। বরং মাত্র ১৫ দিনে চারা রোপণের উপযোগী হয়েছে। 

রোকেয়ার দেবর আব্দুল কুদ্দুস বলেন, প্রথমে আমাদের কাজ দেখে সবাই পাগল বলতো। সঙ্গে এও বলতো কলাগাছের ভেলায় ধানের বীজতলা হলে তো কারও জমির দরকার ছিল না। কিন্তু এখন সবাই অবাক। এখানে কোনো সার-কীটনাশকও লাগেনি। জমিতেও এমন ধানের চারা আর কখনও হয়নি। শুধু আমরা না, গ্রামের সবাই খুশি।

সলুয়া গ্রামের কৃষক কবির মোড়ল বলেন, ভেলার বীজতলায় মাত্র ১৪ দিনে ছয়-সাত ইঞ্চি ধানের চারা, বিশ্বাসই হচ্ছেনা। অথচ আমার জমির বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। 

কৃষক আবদুল্লাহ মোড়ল বলেন, চলতি আমন মৌসুম বৃষ্টির কারণে এক মাস দেরি হয়েছে। সামনে আর সমস্যা হবে না। কলার ভেলা বা প্লাস্টিকের ড্রামের মাধ্যমে মাচা তৈরি করে ধানের বীজতলা করা যাবে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অটোক্রোপ কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, কলাগাছের ভেলায় ধানের বীজতলা কৃষকদের স্বপ্ন দেখাবে। 

ভাসমান ভেলায় ধানের বীজতলা তৈরিতে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করেছেন অ্যাওসেডের কমিউনিটি মোবালাইজার শুভঙ্কর বিশ্বাস। তিনি বলেন, এবার পাইকগাছাসহ খুলনা অঞ্চলে আমনের বীজতলা কয়েকবার নষ্ট হয়ে যায়। এ অবস্থা থেকেই ভাসমান বীজতলা তৈরির ভাবনা। কৃষকরা যার সফল বাস্তবায়ন করেছেন। 

পাইকগাছা ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরামের সভাপতি অধ্যক্ষ রমেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, আমি ভাসমান বীজতলাটি দেখেছি। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আমাদের কৃষকদের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক।

এ বিষয়ে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্টিকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান (ভারপ্রাপ্ত) মীর রিফাত জাহান উষা বলেন, এ বছর খুলনাঞ্চলে ৩ মাস টানা বৃষ্টিতে বেশিরভাগ কৃষকের বীজতলা কয়েকবার নষ্ট হয়েছে। ফলে আমন আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অ্যাওসেডের উদ্ভবিত ভাসমান বীজতলা কৃষকদের আশা জাগাবে। ভাসমান বীজতলা দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিতে নতুন বিপ্লব সূচনা করবে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ