ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডিম-মাছ-মাংসেও আগুন

​সবজির বাজার লাগামহীন

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২২-০৮-২০২৫ ০৩:২৪:৫৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২২-০৮-২০২৫ ০৬:০৪:৩৬ অপরাহ্ন
​সবজির বাজার লাগামহীন সংবাদচিত্র: সংগৃহীত
বেশ কয়েক দিন ধরে সব ধরনের সবজির দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে। একদিকে টানা বৃষ্টি, অন্যদিকে মৌসুমের শেষ। এই দুই কারণের সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সবজির চাহিদা আরও বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়তি। এতে করে সবজি কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিত্যপণ্যের বাজারে দফায় দফায় এমন  দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সবজি, ডিম, মাংস ও মাছের বাজারে লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি ক্রেতাদের নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছে। শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এমন বাড়তি দামের চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে প্রতি কেজি পটল প্রতি কেজি ৯০ টাকা, ধুন্দুল প্রতি কেজি ৮০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ১৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৬০ টাকা, পেঁপে ৩৫ টাকায়, কচুর লতি প্রতি কেজি ৮০ টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ১০০ টাকা, ঝিঙা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, মুলা প্রতি কেজি ৮০ টাকা।

এ ছাড়া করোলা প্রতি কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়, প্রতি কেজি শসা ১০০ টাকা, বেগুন (লম্বা) প্রতি কেজি ১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ২৮০-৩২০ টাকা, কঁচু প্রতি কেজি ৬০ টাকা এবং গাজর প্রতি কেজি ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে সবজির পাশাপাশি কিছুটা দাম বেড়েছে মাছ, মাংস ও ডিমের দাম। রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে প্রতি হালি লাল বা সাদা ডিম ৪৫–৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেই হিসেবে এক ডজন ডিমের দাম দাঁড়িয়েছে ১৩৫ থেকে ১৫০ টাকায়, যা মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও ছিল ১২০–১৩০ টাকা। বাজারে আসা ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, প্রোটিনের সবচেয়ে সহজলভ্য উৎস ডিম এখন আর সাশ্রয়ী নেই।

ব্রয়লার মুরগির দামও ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৮০–১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত মাসে ছিল ১৩০–১৪০ টাকা। লাল মুরগি মানভেদে দাম আরও বেশি ৩৮০–৪০০ টাকা প্রতি কেজি। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, ফিডের দাম বাড়ায় এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে।

ক্রেতারা বলেন, আজকে বাজারে দেখছি সব ধরনের সবজির অতিরিক্ত দাম। বিগত কিছুদিন যাবত সবজির দাম বাড়তি যাচ্ছে, অথচ কী কারণে বাড়তি যাচ্ছে বা বাজার নিয়ন্ত্রণের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে কাউকে দেখা যাচ্ছে না। যদি সবজির এত দাম হয়, তাহলে সাধারণ ক্রেতা খাবে কী?

বিক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টির কারণে এখন সবজির উৎপাদন আর সরবরাহ কম। তাই দাম বেড়েছে। সবুজ হোসেন নামের একজন বিক্রেতা বলেন, এখন কম উৎপাদনের মৌসুম চলছে। এ সময় আবহাওয়ার কারণে জমিতে সবজি চাষ কম হয়, ফলে সরবরাহও কমে যায়। এরমধ্যে অস্বাভাবিক বৃষ্টিতে অনেক এলাকার সবজিক্ষেত তলিয়ে গেছে। এ কারণে বাজারে সবজির দাম বেড়েছে।

অন্যদিকে, গরু ও খাসির মাংসের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০-৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ছাগলের মাংস ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে মাছের বাজারে নতুন করে দাম না বাড়লেও আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের বাজারে এখনও অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ টাকায়, ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৬০০ টাকা, ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং দেড় কেজি ওজনের ইলিশের জন্য গুনতে হচ্ছে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।

কারওয়ান বাজারে আসা গৃহিণী নাহিদা আক্তার বলেন, শাকসবজি, ডাল, মাছ, মাংস- সব কিছুর দামই একসঙ্গে বাড়ছে। গত সপ্তাহে ব্রয়লার কিনেছি ১৬৫ টাকায়, আজ দিতে হলো ১৮২ টাকা। এভাবে চলতে থাকলে মাসের শেষে টান পড়বেই।ভোক্তারা মনে করছেন, সরবরাহ ব্যবস্থার ঘাটতি ও পর্যাপ্ত বাজার মনিটরিং না থাকার কারণেই এভাবে দাম বাড়ছে। তারা সরকারের কাছে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য রাখা যায়।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ