ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​সড়কে মৃত্যুর হিসাবে গড়মিল : একেক সংস্থার একেক হিসাব

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২১-০৮-২০২৫ ১২:৫৬:৫৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২১-০৮-২০২৫ ১২:৫৬:৫৪ অপরাহ্ন
​সড়কে মৃত্যুর হিসাবে গড়মিল : একেক সংস্থার একেক হিসাব ফাইল ছবি
জুলাই মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় কত প্রাণ ঝরেছে-এ নিয়েই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। সরকারি সংস্থা বিআরটিএর হিসাবে নিহত ৩৮০ জন হলেও, বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে নিহত ৪১৮ জন। আর যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি, ৫২০ জন। সরকারি-বেসরকারি পরিসংখ্যানে এমন অমিলের কারণে সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃত চিত্র নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। 

বুধবার (২০ আগস্ট) বিআরটিএর দেওয়া তথ্যমতে, জুলাই মাসে সারা দেশে ৪২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩৮০ জন এবং আহত হয়েছেন ৫৪২ জন। বিভাগভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে নিহত হয়েছেন ১০৩ জন। নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৮৩ জন, বাসে ৪৭ জন এবং ট্রাক বা কাভার্ডভ্যানে ৪৮ জন। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদের স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা বিভাগে ১১৩টি দুর্ঘটনায় নিহত ১০৩ জন, আহত ১৫১ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে ১০০টি দুর্ঘটনায় নিহত ৮৯ জন, আহত ৯২ জন। রাজশাহী বিভাগে ৪৯টি দুর্ঘটনায় নিহত ৫৩ জন, আহত ৪৫ জন। 

খুলনা বিভাগে ৪৪টি দুর্ঘটনায় নিহত ৪৩ জন, আহত ৫০ জন। বরিশাল বিভাগে ২৫টি দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জন, আহত ৪৬ জন। সিলেট বিভাগে ৩০টি দুর্ঘটনায় নিহত ২৬ জন, আহত ৯৯ জন। রংপুর বিভাগে ৪৩টি দুর্ঘটনায় নিহত ৩৮ জন, আহত ৪৮ জন। ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩টি দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জন, আহত ১১ জন। জুলাই মাসে মোট ৬৪২টি যানবাহনে দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে- মোটরকার বা জিপ ১৭টি, বাস বা মিনিবাস ১১৭টি, ট্রাক বা কাভার্ডভ্যান ১৩৩টি, পিকআপ ৪০টি, মাইক্রোবাস ১৫টি, অ্যাম্বুলেন্স ১টি, মোটরসাইকেল ১১৬টি, ভ্যান ৯টি, ট্রাক্টর ৬টি, ইজিবাইক ১০টি, ব্যাটারিচালিত রিকশা ১৪টি, অটোরিকশা ৩৭টি ও অন্যান্য যানবাহন ১২৭টি। এসব দুর্ঘটনায় মোট নিহত হয়েছেন ৩৮০ জন। এর মধ্যে- মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৮৩ জন, অন্যান্য যানবাহনে ৮৫ জন, ট্রাক বা কাভার্ডভ্যানে ৪৮ জন, বাস বা মিনিবাসে ৪৭ জন, অটোরিকশায় ২৮ জন, মাইক্রোবাসে ১৯ জন, পিকআপে ১৮ জন, ভ্যানে ১৭ জন, ব্যাটারিচালিত রিকশায় ১৬ জন, ইজিবাইকে ১৫ জন, মোটরকার বা জিপে ৩ জন, ট্রাক্টরে ১ জনের মৃত্যু হয়। 

এর আগে ১৮ আগস্ট গত মঙ্গলবার বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়- জুলাই মাসে মোট ৪৪৩টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। ১৩১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১০৯ জন, যা মোট নিহতের ২৬ দশমিক আট শতাংশ। দুর্ঘটনার সংখ্যা হিসেব করলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার দাঁড়ায় ২৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিহতদের মধ্যে নারী ৭২ জন (১৭ দশমিক ২২ শতাংশ) এবং শিশু রয়েছে ৫৩ জন (১২ দশমিক ৬৭ শতাংশ)। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৯২ জন পথচারী (২২ শতাংশ) এবং বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও সহকারী ৫৬ জন (১৩ দশমিক ৪০ শতাংশ)। শুধু তাই নয়, চারটি নৌ-দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ছয়জনের এবং ২১টি রেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন।

এরও কিছু দিন আগে গত ১২ আগস্ট মঙ্গলবার যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর পাঠানো এক প্রতিবেদনে বলা হয় জুলাই মাসে সারা দেশে ৫০৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫২০ জন নিহত ও এক হাজার ৩৫৬ জন আহত হয়েছেন। এছাড়াও রেলপথে ৩৪টি দুর্ঘটনায় ৩১ জন নিহত ও ৪১ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ১৪টি দুর্ঘটনায় নিহত ১৭ জন, আহত ১৪ জন ও ৫ জন নিখোঁজ রয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌপথে সর্বমোট ৫৫৪টি দুর্ঘটনায় ৫৬৮ জন নিহত এবং ১৪১১ জন আহত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সময়ে ১৬২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৬৯ জন নিহত ও ১৪৪ জন আহত হয়েছেন। যা মোট দুর্ঘটনার ৩২.০১ শতাংশ, নিহতের ৩২.৫০ শতাংশ ও আহতের ১০.৬১ শতাংশ। এই মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে ঢাকা বিভাগে, সেখানে ১২২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩০ জন নিহত ও ২৯৫ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে বরিশাল বিভাগে, সেখানে ২৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৯৫ জন আহত হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃত পরিসংখ্যান না পাওয়া গেলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণও কার্যকর হয় না। ফলে মৃত্যুহার কমানোর পরিবর্তে প্রতি মাসেই বাড়ছে নতুন নতুন প্রাণহানি। তবে তাদের দেওয়া সুপারিশের বেশ কিছু মিল রয়েছে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সুপারিশ হিসেবে বলা হয়েছে, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ নেয়া, যানবাহনের ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফিটনেস দেয়া, বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের সড়ক-মহাসড়ক জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা, জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে রাতে অবাধে চলাচলের জন্য আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কে ফুটপাতসহ সার্ভিস লেইনের ব্যবস্থা করা,সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা, চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা সুনিশ্চিত করা, মহাসড়কে ফুটপাত ও পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা রাখা, রোড সাইন, রোড মার্কিং স্থাপন করা, সড়ক পরিবহন আইন উন্নত বিশ্বের আদলে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে প্রয়োগ করা উচিত।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন

 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ