ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​পেঁপে থেকে ২০ লক্ষ টাকা আয়ের আশা তোহরুলের

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৮-০৮-২০২৫ ০৬:৪৪:০৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৮-০৮-২০২৫ ০৬:৪৬:০৬ অপরাহ্ন
​পেঁপে থেকে ২০ লক্ষ টাকা আয়ের আশা তোহরুলের ​ছবি: বাংলা স্কুপ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ গোমস্তাপুর সদর ইউনিয়নের তোহরুল ইসলাম পেঁপে থেকে ২০ লক্ষ টাকা আয়ের আশা করছেন। মাত্র দশ বিঘা জমি লিজ নিয়ে পেঁপে, আঙ্গুর, মালটা, কমলা, পেয়ারাসহ ৩২ ধরনের ফলের চারা রোপণ করেছেন। তার মধ্যে ১৭ শত পেঁপে চারা রোপণ করার মাত্র ৩৪ দিনেই ফুল এসে গেছে। ফুলে-ফলে ভরে উঠেছে তোহরুলের বাগান।

তোহরুল ইসলাম জানান, বিদেশ থেকে আসার পর স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটেছি। বিভিন্ন সমস্যা কারণে সেটা বাদ দিয়েছি। ভাবছিলাম কী করব? পরে মাত্র দশ বিঘা মাটি লিজ নিয়ে প্রজেক্টের কাজ শুরু করি। আল্লাহর রহমতে প্রজেক্ট খুব সুন্দর হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে দেশি-বিদেশি ৩২ ধরনের ফলের চারা রোপন করা হয়েছে। যার মধ্যে বাড়ি অন মালটা, ভেদনামি মালটা ও বারোমাসি মালটা, রাম লঙ্গন কমলা, দার্জিলিংয়ের ছাতুক কমলা, ব্ল্যাক ম্যাজিক আঙ্গুর, মানিক চমন আঙ্গুর, বাই কুলুর আঙ্গুর, একলুর আঙ্গুর, মালিক আঙ্গুর, জাপানের জাতীয় ফল পারসিমন ও বারোমাসিক ফল, আলু বোখরা কাঁঠাল, এবাকাটন, লটকন ফল রয়েছে।

এছাড়াও দুই ধরনের পেঁপের চারা রোপণ করা হয়েছে। তোহরুল জানান, বাবু পেঁপে, রেডগান টু পেঁপে গাছে ৩৪ দিন যেতে যখন পেঁপে গাছগুলোতে ফুল এসে যায়। বর্তমানে গাছে গাছে ফুল ফল দেখে আশা করেছি ১৭ শত গাছে  প্রায় ২০ লক্ষ টাকা আয় হবার সম্ভবনা। প্রজেক্ট দেখার জন্য অনেক উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষ  আসেন আমার প্রজেক্ট দেখে তাদের ভালো লাগে। আগামীতে আরও জমি লিজ নিয়ে প্রজেক্ট বাড়বে বলে জানান তিনি। 

শ্রমিক মহবুল ইসলাম জানান, আমরা তোহরুল ভাইয়ের প্রজেক্টে পাঁচ জন শ্রমিক প্রতিদিন কাজ করি। সারাদিন কাজ করে সন্ধ্যেবেলায় টাকা পেয়ে যাই। সে টাকা পেয়ে তখন হাট বাজার করে আমাদের সংসারে ছেলে-মেয়ে নিয়ে দিন কাটাই আমরা ভালো আছি। 

প্রজেক্ট ঘুরে দেখে শম্ভু কুমার নন্দী জানান, তোহরুল ভাইয়ের প্রজেক্টের পেঁপের কথা শুনে দেখতে এসেছিলাম। যা দেখলাম তা অবশ্যই প্রশংসনীয় এবং আরো যাদের দেখেছি তাদের মধ্যে তোহরুল ভাইয়ের প্রজেক্ট ব্যতিক্রমী। 

গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাকলাইন হোসেন জানান, এই উপজেলায় ৪৪ হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষ হচ্ছে। পেঁপে যদি কাঁচা অবস্থায় খাওয়া হয় তখন পুষ্টিকর সবজি আর পাকা অবস্থায় যখন খায় তখন অত্যন্ত রসালো সুস্বাদু হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে টেপলোড, রেডলেডি, বাবু, সুইটি, রেডগান টু, শাহীসহ বিভিন্ন ধরনের পেঁপে চাষ হচ্ছে। এখন তরুণ চাষিরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছে এবং পেঁপে চাষে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। তিনি আরো জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে উপসহকারীরা মাঠ পর্যায়ে উদ্যোক্তাদের পেঁপে চাষে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের তরফ থেকে সব ধরনের সহায়তা করা হবে, যাতে পেঁপে চাষে উদ্যোক্তাদের মনে উৎসাহ জাগে।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচএইচ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ