পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে প্রয়োজনে আইসিসিতে যাবে বিএনপি
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১০-০৮-২০২৫ ০৮:১৪:২১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১০-০৮-২০২৫ ০৮:৩৬:৫২ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
পদ্মাসহ অন্যান্য নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে বিএনপি প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতে যাবে বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রোববার (১০ আগস্ট) রাজশাহী মহানগর বিএনপির সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতায় এসে দেশ-বিদেশে দক্ষ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার আলো শিক্ষার্থীদের মাঝে পৌঁছে দিতে হবে। তাদের ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, দলকে জনগণের কাছে নিয়ে যেতে হবে। তাদের মনে আস্থা সৃষ্টি করতে হবে। তাদের নিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সংস্কারের কথা বলছে অন্যান্য দল, আড়াই বছর আগেই বিএনপি সংস্কার চেয়েছে। বিএনপি দূরদর্শিতার প্রমাণ রেখেছে। আগামীতেও আমরা সেভাবেই লক্ষ্য নির্ধারণ করব।
তিনি বলেন, স্বৈরাচার এ দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তা আবার পুনর্গঠন করবে বিএনপি। সে লক্ষ্যের দিকেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।
তারেক রহমান বলেন, যুবক-বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশে এবং বিদেশে তাদের কর্মসংস্থান করতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। সবস্তরে ভালো শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে হবে। এই শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। আজ ফারাক্কার কারণে পদ্মা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। সুজলা সুফলা এলাকা পদ্মা নদীর পানির অভাবে মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে। পানির ন্যায্য হিস্যা পেতে আমরা আন্তর্জাতিক আদালতে যাব। জাতিসংঘে যাব প্রয়োজন হলে। আমাদের পানির ব্যবস্থা করতে হবে। খালগুলো সংস্কার করতে হবে যেন তারা পানি নিয়ে আবার ঝামেলা করলেও যেন এখানে পানি থাকে।
তিনি আরও বলেন, সামনে অনেক কাজ। অনেক চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ আমাদের নিতে হবে। ছোট ছোট কলকারখানা গড়ে তুলতে হবে। উৎপাদিত দ্রব্য দেশে ব্যবহারের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি করতে হবে। বিচার ব্যবস্থার কাছে বহু মানুষকে যেতে হয়। কিন্তু আমরা দেখছি বিচার ব্যবস্থার জটিলতা, দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বছরের পর বছর মানুষকে কোর্টের বারান্দায় ঘুরতে হয়। আমাদের এই ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হবে, যাতে মানুষ দ্রুত বিচার পায়। কৃষির চ্যালেঞ্জ আছে। সঠিক সময়ে সার পৌঁছাতে হবে। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে হবে, মানুষ যাতে স্বল্পমূল্যেপণ্য পায় সেটা দেখতে হবে, একইসাথে কৃষকরা যেন সঠিক মূল্য পায়।
বিএনপির পক্ষেই সম্ভব এবং তা দেশের মানুষ বিশ্বাস করেন জানিয়ে দলের এই শীর্ষ নেতা বলেন, মানুষ এখন বিশ্বাস করে, একমাত্র বিএনপির পক্ষেই সম্ভব ধীরে ধীরে এই দেশকে গড়ে তোলা। আজ দেশের অধিকাংশ মানুষ বিএনপির দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জগুলো যদি মোকাবিলা করতে হয় তাহলে আমাদের প্রথমে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ না থাকি, তাহলে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে পারব না। জনগণের বিশ্বাস ও আস্থা ধরে রাখার দায়িত্ব আমাদের। তাই আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য দুই হাত তুলে প্রতিজ্ঞা করিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা দেশের মানুষের সামনে সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছি। পরবর্তী পদক্ষেপ আমাদের ৩১ দফা বাস্তবায়ন করা। বেকারদের কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, নদীখনন, খালখনন—এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে। তার জন্য দরকার ঐক্যবদ্ধ হওয়া। আমাদের ডিসিপ্লিন হওয়া দরকার। রাজশাহী মহানগরে আমার প্রত্যাশা থাকবে, আমরা সবাই শপথ গ্রহণ করব যে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব এবং দেশকে পুনর্গঠনের কাজে হাত দেব।
দেশে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ অতি শীঘ্রই আপনাদের সাথে সরাসরি দেখা হবে।
এর আগে প্রায় দেড়যুগ পর রোববার দুপুরে নগরীর কেন্দ্রীয় ঈদগাহের সামনের রাস্তায় বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে মহানগর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম।
সম্মেলনকে ঘিরে সকাল থেকে সম্মেলনস্থলে যোগ দিতে দূর-দূরান্ত থেকে নেতাকর্মীরা দলে দলে নগরীতে প্রবেশ করেন। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সম্মেলনস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। সম্মেলনস্থলে জায়গা না পেয়ে বিএনপির নেতাকর্মী-সমর্থকরা পদ্মা নদীর ধারসহ আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন।
দ্বিবার্ষিক এই সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা। সদস্য সচিব মামুন অর রশিদের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহীন শওকত খালেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলিমুজ্জামান আলিম, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম মিলন, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল হুদা, যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়ালিউল হক রানা, মতিউর রহমান মন্টু, আসলাম সরকার, মহানগর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ সুইট, বর্তমান আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান রিটন প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বরে বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশাকে আহ্বায়ক ও মামুন অর রশিদ মামুনকে সদস্য সচিব করে রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর প্রায় সাড়ে তিন মাস পর আহ্বায়ক কমিটির পরিধি বাড়িয়ে ৬১ সদস্যের করা হয়। তারপর থেকে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে আহ্বায়ক কমিটিতেই চলছে রাজশাহী মহানগর বিএনপি।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স