ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আবার ডুবেছে ভবদহ এলাকা

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৬-০৮-২০২৫ ১০:৪৩:৪৯ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ০৬-০৮-২০২৫ ০১:০৪:১৬ অপরাহ্ন
আবার ডুবেছে ভবদহ এলাকা সংবাদচিত্র: সংগৃহীত
আবার ডুবেছে ভবদহ এলাকা। টানা বৃষ্টিতে যশোর সদর, অভয়নগর ও মনিরামপুর উপজেলার অন্তত ৫০টি গ্রামের বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে। তলিয়ে গেছে মাছের ঘের। দীর্ঘদিনের নদী-নালা খনন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে ভবদহবাসীকে বছরের পর বছর এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

যশোর সদরের কিছু অংশ, অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলা এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার অংশবিশেষ নিয়ে ভবদহ এলাকা গঠিত। মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদীর মাধ্যমে এই এলাকার পানি ওঠানামা করে। এসব উপজেলার ৫৪টি বিলের পানি নিষ্কাশিত হয় শ্রী নদীর ওপর নির্মিত ভবদহ স্লুইসগেট দিয়ে।জানা গেছে, ২০১৩ সালের পর এলাকার কোনো বিলে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট বা জোয়ারাধার) চালু না থাকায় পলি পড়ে মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদীর বুক উঁচু হয়ে গেছে। ফলে নদী দিয়ে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। এছাড়া এলাকার পাঁচ-ছয়টি বিলের পানি নিষ্কাশনের অন্যতম পথ আমডাঙ্গা খাল সংস্কার না করায় ঠিকমতো পানি নিষ্কাশন হয় না। এ অবস্থায় বৃষ্টির পানিতে এলাকার বিলগুলো প্লাবিত হয়েছে। বিল উপচে পানি ঢুকছে আশপাশের গ্রামে।যশোরের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিমানঘাঁটির আবহাওয়া বিভাগ জানায়, গত জুনে গড় বৃষ্টিপাত ছিল ২৯৯ মিলিমিটার। ২৭ জুলাই পর্যন্ত ৫১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এতে ভবদহ এলাকার বিলগুলো প্লাবিত হয়ে পানি উপচে আশপাশের গ্রামে ঢুকছে।

জলাবদ্ধতার শিকার এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রামগুলোর কোথাও আংশিক আবার কোথাও বেশির ভাগ বাড়ির আঙিনায় পানি উঠেছে। ডুমুরতলা-বেদভিটা রোড, বলারাবাদ রোড, আন্দা-বলারাবাদ রোড, আন্দা-ডুমুরতলা রোড ডুবে আছে। এ ছাড়া পানি উঠেছে মশিয়াহাটি-সুন্দলী রোডের অন্তত পাঁচ জায়গায়। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এসব গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। অভয়নগর উপজেলার ডুমুরতলা গ্রামের কলেজশিক্ষক সমরেশ বৈরাগী জানান, গ্রামটির ১৫০ বাড়ির উঠানে এক থেকে দুই ফুট পানি উঠেছে। আবার বৃষ্টি হলে বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় উঠতে হবে।ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির সুন্দলী এলাকার সদস্য সচিব কানু বিশ্বাস বলেন, বিলগুলোতে পানি থইথই করছে। মাছের ঘের ও ফসল তলিয়ে গেছে। বাড়িঘরে পানি ঢুকছে। ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রণজিত বাওয়ালী বলেন, ভবদহ এলাকার অনেক গ্রাম জলাবদ্ধ। বিলে টিআরএম (জোয়ারাধার) চালু না করলে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি নেই।

ভবদহের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে গত ২২ এপ্রিল পরিদর্শন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ তিন উপদেষ্টা। পরিদর্শন শেষে আমডাঙ্গা খালে ইউড্রেন এবং ৮১ কিলোমিটার নদী খনন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন রিজওয়ানা হাসান। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে আমডাঙ্গা খালের কাজের ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়েছে। নদী খননের কাজ প্রক্রিয়াধীন। যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, ভবদহের ২১ ভেন্টের ছয়টি গেট দিয়ে পানি বের হচ্ছে। আমডাঙ্গা খাল দিয়েও কিছুটা পানি বের হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ভবদহে ৮১ কিলোমিটার নদী কাটার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া আমডাঙ্গা খালের ইউড্রেন (ভূগর্ভস্থ নিষ্কাশন ব্যবস্থা) প্রকল্প শিগগিরই শুরু হবে।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/ এনআইএন


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ