যশোরে চাঁদা দাবি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার আবুল কাশেমের

আপলোড সময় : ২৪-১০-২০২৬ ০৩:০৫:০৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৪-১০-২০২৬ ০৩:০৫:০৯ অপরাহ্ন
যশোরের বেনাপোলের উত্তর কাগজপুকুর এলাকার সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট ব্যবসায়ী ও বেনাপোল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাশেম তাঁর বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, জমি দখল, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

লিখিত বক্তব্যে আবুল কাশেম বলেন, গত ২০ অক্টোবর হযরত আলী প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁর দল ও পদ-পদবি উল্লেখ করে বিভিন্ন অভিযোগ করেন। সেখানে গত ৬ সেপ্টেম্বর পিস্তল, রামদা, বার্মিজ চাকুসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা, মারধর, ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই বলে দাবি করেন তিনি সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন।

জমিসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে আবুল কাশেম বলেন,বেনাপোলের উত্তর কাগজপুকুর এলাকায় সরকারি খাসজমির প্রায় হাফ শতক নিয়ে জালাল উদ্দীন ও মোখলেছুর রহমানের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা আগে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। পরে দুই পক্ষ থানায় অভিযোগ করলে পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পরামর্শ দেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে জালাল উদ্দীনের স্ত্রী নার্গিস বেগম গোয়ালঘর নির্মাণের জন্য শ্রমিক নিয়ে এসে কলাম স্থাপনের উদ্দেশ্যে মাটি খনন শুরু করলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হযরত আলী আদালতে মামলা করেন। মামলায় শিক্ষার্থী, বন্দরশ্রমিক, দিনমজুর ও ব্যবসায়ীদের আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আবুল কাশেমের ভাষ্য অনুযায়ী, জমিসংক্রান্ত বিরোধের ঘটনাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন রয়েছে। পাশাপাশি বেনাপোল পোর্ট থানায়ও এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। জমিটি সরকারি খাসজমি হওয়ায় এটি নিয়ে তাঁর বা হযরত আলীর ব্যক্তিগত মালিকানার দাবি নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আবুল কাশেম বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। পাশাপাশি বেনাপোল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় একটি মসজিদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের মাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, তাঁরা জাতির বিবেক। তাই কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে ঘটনার প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আবুল কাশেমের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুর রহমান খোকন, কাগজপুকুর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, বেনাপোল ইউনিয়ন বিএনপির সহ-যুববিষয়ক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, বেনাপোল ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য জুলফিকার আলী জুলু ও আকতার আলী এবং বেনাপোল পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আরিফ। এ ছাড়া মোখলেসুর রহমান ও নাজমুল হোসেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 
 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :