জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাবে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাট এলাকার ব্যতিক্রমধর্মী রেস্টুরেন্ট ‘প্রজেক্ট হিলশা’। এটি দেশের অন্যতম বড় রেস্টুরেন্ট। একসময় যেখানে গ্রাহকের উপচে পড়া ভিড় ছিল, সেখানে এখন দিনভর দেখা যাচ্ছে সুনশান নীরবতা।
সরেজমিনে গত শনিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে রেস্টুরেন্টটিতে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল আয়তনের এই স্থাপনায় হাতেগোনা কয়েকজন কর্মচারী ছাড়া তেমন কোনো গ্রাহক নেই। বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একজন গ্রাহকও প্রবেশ করেননি। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর ৫-৬ জন এলেও তারা খাবার না খেয়ে ঘুরে চলে যান।
রেস্টুরেন্টটির অন্যতম আকর্ষণ ওপেন কিচেন। যেখানে গ্রাহকদের সামনে ইলিশ, চিংড়ি, রূপচাঁদাসহ নানা মাছ রান্না করা হয়। তবে সেখানে ছিল নিস্তব্ধতা। মাছ সাজানো থাকলেও ক্রেতা নেই।
রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, পণ্যের দাম বেশি- এমন অপপ্রচার এবং জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে দূর-দূরান্ত থেকে গ্রাহকরা গাড়ি নিয়ে আসতে না পারায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
রেস্টুরেন্টের একটি সূত্র জানায়, বর্তমান বিক্রির অবস্থা এতটাই খারাপ যে কর্মচারীদের বেতন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। একসময় এখানে ১২০ জনের বেশি কর্মচারী থাকলেও এখন আছেন মাত্র ৩০–৩২ জন। তবে মালিকপক্ষ নিয়মিত বেতন দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন কর্মীরা।
রেস্টুরেন্টের অর্ডার বয় হাবিবুর বলেন, আমার বাড়ি খুলনায়। এখানে চাকরি করছি। কিন্তু এখন কাস্টমার খুবই কম। আমাদের অধিকাংশ গ্রাহক ঢাকা থেকে গাড়ি নিয়ে আসতেন। তেল সংকটের কারণে মানুষ এখন জরুরি কাজ ছাড়া গাড়ি ব্যবহার করছেন না, তাই রেস্টুরেন্টে ঘুরতে আসাও অনেকের জন্য সম্ভব হচ্ছে না।
অপর কর্মী রমজান বলেন, বর্তমানে বিক্রি এত কম যে কর্মচারীদের বেতন দেওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে মালিকপক্ষ নিজেদের উদ্যোগে সময়মতো বেতন-ভাতা পরিশোধ করছে। তেল সংকটের কারণেই মূলত লোকজন কম আসছে।
এদিকে রেস্টুরেন্টের ভেতরে গ্রাহক না থাকলেও বাইরে ভিড় দেখা যায় দর্শনার্থীদের। অনেকে শুধু ছবি তুলতে আসছেন। কারণ ইলিশ মাছের আদলে তৈরি এই স্থাপনাটি দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। পাশেই শিমুলিয়া ও মাওয়া ঘাট, যেখানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ইলিশ খেতে আসেন। তবে অনেকেই প্রজেক্ট হিলশায় না ঢুকে ঘাটের অন্য হোটেলে চলে যাচ্ছেন।
একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র সাকিব হোসেন বলেন, আমার বাড়ি নরসিংদী সদর উপজেলায়। আমি ঢাকায় থেকে লেখাপড়া করি। মাওয়া ঘাটে যাচ্ছি ইলিশ মাছ খেতে। রাস্তায় এই হিলশা রেস্টুরেন্টটি পড়ায় বন্ধুদের নিয়ে ছবি তুলছি। রেস্টুরেন্টটি দেখতে খুবই আকর্ষণীয়।
জানা গেছে, রেস্টুরেন্টটিতে একসঙ্গে ৩৫০ জনের বেশি মানুষ বসে খাবার খেতে পারেন। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এখানে বাংলা, ইন্ডিয়ান, থাই ও কন্টিনেন্টাল খাবারের পাশাপাশি ইলিশের ১৩ ধরনের পদ পরিবেশন করা হয়। এছাড়া বিফ, চিকেন, কাবাব, নান, জুসসহ বিভিন্ন খাবার পাওয়া যায়। এখানে ৩৫০ টাকা থেকে খাবার শুরু হয়। ৬৫০–৭০০ টাকার মধ্যেই ইলিশসহ ভরপেট খাওয়া সম্ভব। খাবারের মূল্যের সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১০ শতাংশ সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য।
প্রজেক্ট হিলশার জেনারেল ম্যানেজার মো. নিশাত বলেন, প্রজেক্ট হিলশা আমরা ২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল শুরু করি। শুরু থেকেই সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছি। যদিও প্রথমদিকে কিছু নেতিবাচক রিভিউ ছিল, তবে ধীরে ধীরে তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। আমরা সব সময় পদ্মার ইলিশ দেওয়ার চেষ্টা করি, না থাকলে মেঘনা, চাঁদপুর বা ভোলার ইলিশ পরিবেশন করি। অন্যান্য সি-ফুড সরাসরি চট্টগ্রাম থেকে সংগ্রহ করা হয়। গত তিন বছর বাজারদর বাড়লেও আমাদের খাবারের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রজেক্ট হিলশা মূলত ইলিশভিত্তিক হলেও এখানে থাই, চাইনিজ ও ইন্ডিয়ান খাবার পাওয়া যায়। ৩৩০ টাকা থেকে সেট মেনু রয়েছে, ফলে সব শ্রেণির মানুষই এখানে খেতে পারেন। পাশাপাশি অতিথিদের জন্য ওয়েলকাম ড্রিংকস হিসেবে কাঁচা আমের জুস, বেলের শরবত ও ফ্রি চায়ের ব্যবস্থা রয়েছে- যারা ডাইনিং করতে আসেন বা শুধু ঘুরতে আসেন, সবার জন্যই এটি উন্মুক্ত।
নিশাত বলেন, আমাদের নিজস্ব ডেইরি ফার্মের দুধ দিয়ে দই ও মিষ্টি তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। এছাড়া এখান থেকে ইলিশ মাছও পাঠানো হয়। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত রেস্টুরেন্ট খোলা থাকে। এখানে খাবার না খেলেও প্রবেশ, টয়লেট ব্যবহার বা নামাজ পড়ার সুযোগ রয়েছে। বিয়ে বা অন্যান্য অনুষ্ঠানের জন্যও সব ধরনের ব্যবস্থা আছে, যেখানে নির্ধারিত বাজেট অনুযায়ী খাবার পরিবেশন করা হয়।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
সরেজমিনে গত শনিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে রেস্টুরেন্টটিতে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল আয়তনের এই স্থাপনায় হাতেগোনা কয়েকজন কর্মচারী ছাড়া তেমন কোনো গ্রাহক নেই। বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একজন গ্রাহকও প্রবেশ করেননি। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর ৫-৬ জন এলেও তারা খাবার না খেয়ে ঘুরে চলে যান।
রেস্টুরেন্টটির অন্যতম আকর্ষণ ওপেন কিচেন। যেখানে গ্রাহকদের সামনে ইলিশ, চিংড়ি, রূপচাঁদাসহ নানা মাছ রান্না করা হয়। তবে সেখানে ছিল নিস্তব্ধতা। মাছ সাজানো থাকলেও ক্রেতা নেই।
রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, পণ্যের দাম বেশি- এমন অপপ্রচার এবং জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে দূর-দূরান্ত থেকে গ্রাহকরা গাড়ি নিয়ে আসতে না পারায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
রেস্টুরেন্টের একটি সূত্র জানায়, বর্তমান বিক্রির অবস্থা এতটাই খারাপ যে কর্মচারীদের বেতন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। একসময় এখানে ১২০ জনের বেশি কর্মচারী থাকলেও এখন আছেন মাত্র ৩০–৩২ জন। তবে মালিকপক্ষ নিয়মিত বেতন দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন কর্মীরা।
রেস্টুরেন্টের অর্ডার বয় হাবিবুর বলেন, আমার বাড়ি খুলনায়। এখানে চাকরি করছি। কিন্তু এখন কাস্টমার খুবই কম। আমাদের অধিকাংশ গ্রাহক ঢাকা থেকে গাড়ি নিয়ে আসতেন। তেল সংকটের কারণে মানুষ এখন জরুরি কাজ ছাড়া গাড়ি ব্যবহার করছেন না, তাই রেস্টুরেন্টে ঘুরতে আসাও অনেকের জন্য সম্ভব হচ্ছে না।
অপর কর্মী রমজান বলেন, বর্তমানে বিক্রি এত কম যে কর্মচারীদের বেতন দেওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে মালিকপক্ষ নিজেদের উদ্যোগে সময়মতো বেতন-ভাতা পরিশোধ করছে। তেল সংকটের কারণেই মূলত লোকজন কম আসছে।
এদিকে রেস্টুরেন্টের ভেতরে গ্রাহক না থাকলেও বাইরে ভিড় দেখা যায় দর্শনার্থীদের। অনেকে শুধু ছবি তুলতে আসছেন। কারণ ইলিশ মাছের আদলে তৈরি এই স্থাপনাটি দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। পাশেই শিমুলিয়া ও মাওয়া ঘাট, যেখানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ইলিশ খেতে আসেন। তবে অনেকেই প্রজেক্ট হিলশায় না ঢুকে ঘাটের অন্য হোটেলে চলে যাচ্ছেন।
একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র সাকিব হোসেন বলেন, আমার বাড়ি নরসিংদী সদর উপজেলায়। আমি ঢাকায় থেকে লেখাপড়া করি। মাওয়া ঘাটে যাচ্ছি ইলিশ মাছ খেতে। রাস্তায় এই হিলশা রেস্টুরেন্টটি পড়ায় বন্ধুদের নিয়ে ছবি তুলছি। রেস্টুরেন্টটি দেখতে খুবই আকর্ষণীয়।
জানা গেছে, রেস্টুরেন্টটিতে একসঙ্গে ৩৫০ জনের বেশি মানুষ বসে খাবার খেতে পারেন। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এখানে বাংলা, ইন্ডিয়ান, থাই ও কন্টিনেন্টাল খাবারের পাশাপাশি ইলিশের ১৩ ধরনের পদ পরিবেশন করা হয়। এছাড়া বিফ, চিকেন, কাবাব, নান, জুসসহ বিভিন্ন খাবার পাওয়া যায়। এখানে ৩৫০ টাকা থেকে খাবার শুরু হয়। ৬৫০–৭০০ টাকার মধ্যেই ইলিশসহ ভরপেট খাওয়া সম্ভব। খাবারের মূল্যের সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১০ শতাংশ সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য।
প্রজেক্ট হিলশার জেনারেল ম্যানেজার মো. নিশাত বলেন, প্রজেক্ট হিলশা আমরা ২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল শুরু করি। শুরু থেকেই সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছি। যদিও প্রথমদিকে কিছু নেতিবাচক রিভিউ ছিল, তবে ধীরে ধীরে তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। আমরা সব সময় পদ্মার ইলিশ দেওয়ার চেষ্টা করি, না থাকলে মেঘনা, চাঁদপুর বা ভোলার ইলিশ পরিবেশন করি। অন্যান্য সি-ফুড সরাসরি চট্টগ্রাম থেকে সংগ্রহ করা হয়। গত তিন বছর বাজারদর বাড়লেও আমাদের খাবারের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রজেক্ট হিলশা মূলত ইলিশভিত্তিক হলেও এখানে থাই, চাইনিজ ও ইন্ডিয়ান খাবার পাওয়া যায়। ৩৩০ টাকা থেকে সেট মেনু রয়েছে, ফলে সব শ্রেণির মানুষই এখানে খেতে পারেন। পাশাপাশি অতিথিদের জন্য ওয়েলকাম ড্রিংকস হিসেবে কাঁচা আমের জুস, বেলের শরবত ও ফ্রি চায়ের ব্যবস্থা রয়েছে- যারা ডাইনিং করতে আসেন বা শুধু ঘুরতে আসেন, সবার জন্যই এটি উন্মুক্ত।
নিশাত বলেন, আমাদের নিজস্ব ডেইরি ফার্মের দুধ দিয়ে দই ও মিষ্টি তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। এছাড়া এখান থেকে ইলিশ মাছও পাঠানো হয়। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত রেস্টুরেন্ট খোলা থাকে। এখানে খাবার না খেলেও প্রবেশ, টয়লেট ব্যবহার বা নামাজ পড়ার সুযোগ রয়েছে। বিয়ে বা অন্যান্য অনুষ্ঠানের জন্যও সব ধরনের ব্যবস্থা আছে, যেখানে নির্ধারিত বাজেট অনুযায়ী খাবার পরিবেশন করা হয়।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন