একে একে ৭টি ব্রিজ নদীগর্ভে, বিপাকে সহস্রাধিক মানুষ

আপলোড সময় : ৩১-০৭-২০২৫ ০৩:২০:৩৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ৩১-০৭-২০২৫ ০৩:২০:৩৯ অপরাহ্ন
দুই মাসের ব্যবধানে সাতক্ষীরা মরিচ্চাপ নদীগর্ভে একে একে সাতটি ব্রিজ বিলীন হয়েছে। এতে প্রবহমান এই নদীর দুপাশের তিনটি উপজেলার হাজার হাজার মানুষ পড়েছেন বিপাকে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অনিয়মসহ ব্রিজগুলো নির্মাণ করা হয়নি সিএস রেকর্ড মেনে। নেয়া হয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতামতও। যদিও ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নকারী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনগণের সুবিধার্থে দুটি ব্রিজ দ্রুতই নির্মাণ করবে এলজিইডি।

জানা যায়, সাতক্ষীরার সদর, দেবহাটা ও আশাশুনি উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবহমান মরিচ্চাপ নদীর ওপরে ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের অধীন ‘গ্রামীণ রাস্তায় ছোট ছোট দৈর্ঘ্যের সেতু/কালভার্ট নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হয়, বাকড়া ব্রিজ, কামালকাটি ব্রিজ, কুন্দুড়িয়া ব্রিজ, হিজলডাঙ্গা ব্রিজ, শিমুলবাড়িয়া ব্রিজ, দাড়ার খাল ব্রিজ ও এল্লারচর ব্রিজ। দীর্ঘদিন ধরে এই তিন উপজেলার জনসাধারণের চলাচল ও অর্থকরী ফসল মাছ, ধান ও শাক সবজি পরিবহনে এই ব্রিজগুলো ব্যবহার হয়ে আসছিল।

সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ড মরিচ্চাপ নদী পুনঃখনন করায় নদীর গভীরতা বেড়েছে। নদী চওড়া হয়েছে ব্রিজগুলোর দৈর্ঘ্যের চেয়ে বেশি। এতে নদী প্রাণ ফিরে পাওয়ায় জোয়ার-ভাটার পানির তোড়ে ব্রিজগুলো ভেঙে নদীগর্ভে চলে যায়। সাধারণ মানুষের চলাচল ও ব্যবহার অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রবহমান এই নদীর দুপাশের তিনটি উপজেলার হাজার হাজার মানুষ পড়েছেন বিপাকে। বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরাও। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও ব্যবসায়ীরা কোনো প্রকার ছোট বড় পিকআপভ্যান-ট্রাক চলাচল করতে পারছেন না। পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা ২০ কিলোমিটার ঘুরে আসতে হয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে বলে জানালেন ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান মাসুম। অপরিকল্পিতভাবে ব্রিজগুলো করায় কোটি কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে সরকারের; যা জনগণের টাকা বলে জানালেন, সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাড. আজাদ হোসেন বেলাল।

সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী খনন করায় নদীগুলো প্রাণ ফিরে পেয়েছে উল্লেখ করে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সালাউদ্দীন জানান, এ ধরনের ব্রিজ নির্মাণকালে প্রকৃত প্রশস্ততা কতটুকু তা বিবেচনা করা উচিত ছিল। তবে আগামীতে এ ধরনের কোনো ব্রিজ করতে সমন্বয় করা হবে। নদী খননের কারণে ব্রিজগুলো ভেঙে গেছে উল্লেখ করে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শোয়াইব আহমেদ জানান, ধসে পড়া সাতটি ব্রিজের মধ্যে জনগণের সুবিধার্থে দুটি ব্রিজ দ্রুতই নির্মাণ করবে এলজিইডি। উপজেলা প্রশাসনের দেয়া তথ্য মেতাবেক ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে নির্মিত ব্রিজগুলোর দৈর্ঘ্য ৩০ ফুট থেকে ৬০ ফুট দৈর্ঘ্য ছিল। প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রিজগুলো নদীর প্রশস্ততার চেয়ে অনেক কম ছিল।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :