এলপিজির দাম পুনর্নির্ধারণে ১ নভেম্বরের পর সিদ্ধান্ত
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৯-১০-২০২৬ ০৬:১৩:৫৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৯-১০-২০২৬ ০৬:৫৮:৪৩ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
ভোক্তাপর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিয়াম ফাউন্ডেশনের শহীদ এ কে এম শামসুল হক খান মেমোরিয়াল অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সরকারি-বেসরকারি এলপিজি কোম্পানি, অপারেটর, পরিবেশক, খুচরা বিক্রেতা, অটোগ্যাস স্টেশন, ভোক্তা অধিকার সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের প্রস্তাব, ব্যয় ও মতামত তুলে ধরে। শুনানিতে উপস্থাপিত প্রস্তাব ও মতামত পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে এলপিজির নতুন মূল্যহার নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।
বিইআরসি এক বার্তায় জানায়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩-এর ৩৪(৬) ধারা অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির ভোক্তাপর্যায়ের মূল্যহার পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়।
শুনানিতে সরকারি এলপিজি কোম্পানি এলপি গ্যাস পিএলসি, বেসরকারি আবেদনকারী এবং এলপিজি অপারেটর, ডিস্ট্রিবিউটর ও রিটেইলার ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের হিসাব ও মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি অটোগ্যাস স্টেশনগুলোর পক্ষ থেকেও প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
এ সময় কমিশনের গঠিত কারিগরি মূল্যায়ন দলের পক্ষ থেকে মূল্যহার নির্ধারণের আইনগত ভিত্তি, কমিশনের দায়িত্ব এবং এলপিজির দাম নির্ধারণে বিবেচ্য বিভিন্ন উপাদান সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। শুনানিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠন, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), ভোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষ নিজেদের মতামত ও পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করে।
বিইআরসির চেয়ারম্যান শুনানিতে অংশ নেওয়া সবাইকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে গণশুনানি-পরবর্তী লিখিত মতামত জমা দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কমিশনের কাছে লিখিত মতামত পাঠাতে পারবে।
বার্তায় বলা হয়, আবেদনকারীদের প্রস্তাব, কমিশনের কারিগরি মূল্যায়ন দলের প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামতসহ সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করা হবে। এরপর আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে ভোক্তাপর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির মূল্যহার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে কমিশন।
দেশে রান্নার কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এলপিজির দাম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বিইআরসি প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দিলেও অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে আমদানি, সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার দাবি করা হলেও খুচরা বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এলপিজির দাম নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দর, ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ও পরিবহন ব্যয়, অপারেটরদের অন্যান্য খরচ এবং বিপণন পর্যায়ের ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এসব ব্যয়ের পাশাপাশি পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতার কমিশন এবং বাজারে নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়নের বিষয়টিও ভোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।এ অবস্থায় নতুন মূল্যহার নির্ধারণের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ব্যয়ের যৌক্তিকতা যাচাই এবং ভোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনা করা কমিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স