৩.৫ একর জায়গাজুড়ে ৪০০ বছরের রহস্যঘেরা বটগাছ
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২০-০৪-২০২৬ ০৪:০১:৩৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২০-০৪-২০২৬ ০৪:০১:৩৩ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার নীরব-সবুজ প্রকৃতির মাঝে লুকিয়ে আছে এক ঐতিহাসিক বিস্ময় ‘বনবিবির বটতলা’। প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো এই বিশাল বটগাছকে ঘিরে গড়ে উঠেছে ইতিহাস, লোকবিশ্বাস আর রহস্যময়তার এক অনন্য আবহ, যা প্রতিদিনই টানছে দর্শনার্থীদের।
সাতক্ষীরা জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দেবহাটা উপজেলা সদরের কাছেই বিস্তৃত এই বটতলা। প্রায় ৩.৫ একর জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বটগাছটি শাখা-প্রশাখা থেকে মাটিতে নেমে আসা অসংখ্য শিকড়ে এক বিশাল অরণ্যের রূপ নিয়েছে। প্রকৃতির আপন নিয়মে বেড়ে ওঠা এই গাছটি এখন এক অনন্য প্রাকৃতিক নিদর্শন।
স্থানীয়দের মতে, এই বটতলায় একসময় সাধু-ঋষিরা ধ্যানমগ্ন থাকতেন। এখানে বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা-অর্চনাও হতো নিয়মিত। লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, ‘বনবিবি’কে স্মরণ করে মনোবাসনা জানালে তা পূরণ হয়। এই বিশ্বাস থেকেই এখনো অনেকে এখানে আসেন প্রার্থনা করতে।
যদিও এখন আর সাধু-ঋষিদের দেখা মেলে না, তবুও এই স্থানটি হারায়নি তার আকর্ষণ। প্রতিদিনই নানা বয়সি নারী-পুরুষ এখানে ভিড় করেন বিনোদন ও মানসিক প্রশান্তির খোঁজে। ছায়াঘেরা পরিবেশ, পাখির কূজন আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই বটতলা যেন এক প্রশান্তির ঠিকানা।
উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে এখানে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। থাকে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, পান্তা-ইলিশ উৎসবসহ নানা আয়োজন। এছাড়া বাংলা সনের ১ মাঘে বসে ঐতিহ্যবাহী মেলা, যেখানে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে ভিড় জমান।
স্থানীয়দের দাবি, প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ‘বনবিবির বটতলা’ একটি সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। এতে যেমন বাড়বে দর্শনার্থীদের আগমন, তেমনি সৃষ্টি হবে স্থানীয় পর্যায়ে রাজস্ব আয়ের নতুন সুযোগ।
ইতিহাস, বিশ্বাস আর প্রকৃতির অপূর্ব মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই বটতলা আজও মানুষকে টানে— কখনো রহস্যে, কখনো প্রশান্তির খোঁজে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স