ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের অপেক্ষায় নেপাল

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ০৫-০৩-২০২৬ ০৮:৩৯:৩৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৫-০৩-২০২৬ ০৮:৩৯:৩৭ অপরাহ্ন
​গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের অপেক্ষায় নেপাল ​ছবি: সংগৃহীত
দুর্নীতিবিরোধী রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভে সরকার পতনের ছয় মাস পর, নেপালে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) নতুন পার্লামেন্ট গঠনের লক্ষ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনে দেশটির দীর্ঘদিনের পুরনো রাজনৈতিক শক্তি এবং শক্তিশালী যুব আন্দোলনের মধ্যে এক চরম লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

ক্ষমতার লড়াইয়ে থাকা মূল ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—পুনরায় ক্ষমতায় ফিরতে ইচ্ছুক সাবেক মার্ক্সবাদী প্রধানমন্ত্রী, তরুণদের ভোট টানতে মরিয়া র‍্যাপার থেকে মেয়র হওয়া এক নেতা এবং প্রভাবশালী নেপালি কংগ্রেস পার্টির নবনির্বাচিত নেতা। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা ব্যালট বাক্স সংগ্রহ শুরু করেছেন। কড়া পাহারায় এগুলো প্রতিটি নির্বাচনি এলাকার কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হবে এবং এরপরই গণনা শুরু হবে। শুক্রবারের মধ্যেই কিছু আসনের ফলাফল পাওয়া যেতে পারে, তবে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল আসতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি কলেজে সবার আগে ভোট দিতে আসা ৬০ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী নীলকান্ত শাক্য বলেন, ‘নেপালিরা দীর্ঘকাল ধরে এক ব্যবস্থা থেকে অন্য ব্যবস্থায় পরিবর্তনের অপেক্ষায় আছে। আশা করি এবার একটি অর্থবহ পরিবর্তন আসবে।’

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের গণঅভ্যুত্থানে অন্তত ৭৭ জন নিহত এবং পার্লামেন্টসহ বহু সরকারি ভবন পুড়িয়ে দেওয়ার পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবর্তে কারা ক্ষমতায় আসবে, তা নির্ধারণে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। 'জেন-জি'র ব্যানারে তরুণদের এই আন্দোলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে শুরু হলেও পরে তা দুর্নীতি এবং ভঙ্গুর অর্থনীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক গণবিক্ষোভে রূপ নেয়।

তিন কোটি জনসংখ্যার হিমালয় কন্যা নেপালে ২০০৬ সালের গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এবারের নির্বাচনটি অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাজার হাজার সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

‘রক্তের বিনিময়ে আসবে পরিবর্তন’

মাউন্ট এভারেস্টসহ বিশ্বের ১০টি সর্বোচ্চ শৃঙ্গের আটটিই নেপালে অবস্থিত। তুষারাবৃত পার্বত্য অঞ্চলগুলো থেকে ব্যালট বক্স সংগ্রহে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে। তবে সবার নজর এখন কাঠমান্ডুর দক্ষিণে অবস্থিত সমতল কৃষি অঞ্চলের দিকে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী পদের তিন দাবিদারই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

৭৪ বছর বয়সী মার্ক্সবাদী নেতা কেপি শর্মা অলি, যিনি গত বছর প্রধানমন্ত্রীর পদ হারিয়েছিলেন, তিনি ঝাপা জেলার পূর্বাঞ্চলীয় একটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে লড়ছেন কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র ৩৫ বছর বয়সী র‍্যাপার ও রাজনীতিবিদ বলেন্দ্র শাহ। অলি ভোট দেওয়ার পর বলেন, ‘এই নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হতে হবে এবং অরাজনৈতিক ও নৈরাজ্যবাদী প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।’

কেন্দ্রপন্থী রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) বলেন্দ্র শাহ নিজেকে তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, দেশের প্রাচীনতম দল নেপালি কংগ্রেসের নতুন প্রধান ৪৯ বছর বয়সী গগন থাপা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন। তিনি প্রবীণ নেতাদের ‘ওল্ড এজ ক্লাব’ বা চক্রাকার নেতৃত্বের অবসান ঘটাতে চান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোটাররা তাদের আঙুলের কালির ছাপের ছবির পাশাপাশি গত সেপ্টেম্বরের আন্দোলনের ছবিও শেয়ার করছেন। ঝাপায় ভোট দেওয়া ৬৬ বছর বয়সী টেক বাহাদুর আলে বলেন, ‘সেপ্টেম্বরের আন্দোলনে মানুষ মারা গেছে—আশা করি তাদের রক্ত পরিবর্তন আনবে। আমরা এমন একটি সরকার চাই যেখানে সুশাসন থাকবে এবং দুর্নীতি থাকবে না।’

নেপালের ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি সভার (নিম্নকক্ষ) ১৬৫টি আসনে সরাসরি নির্বাচনের জন্য ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি প্রার্থী লড়াই করছেন। বাকি ১১০টি আসন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে (সমানুপাতিক পদ্ধতি) পূরণ করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, কোনো দলেরই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ